বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজছাত্র রাকিবের চোখ উৎপাটনের ঘটনার মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরো পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুন) দুপুরে বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী একে এম জাহাঙ্গীর জানান, ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে বাবুগঞ্জের বাহেরচর এলাকার মাসুদ মৃধার ভাই রফিকুল ইসলামকে মারধর করে অচেনা দুর্বৃত্তরা। মাসুদ এ হামলার পেছনে একই এলাকার সেলিম হাওলাদারের ছেলে বাবুগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র রাহাত রেজা ওরফে রাকিব জড়িত বলে সন্দেহ করেন।
এর জের ধরে দুইদিন পর চরকান্দা মরাডাঙ্গীর খালগোড়ায় মাসুদ তার সহযোগীদের নিয়ে রাকিবকে মারধর করে দু’টি চোখ উপড়ে ফেলেন। ্এ সময় রাকিবের চিৎকারে পরিবার ও আশপাশের লোকজন ছুটে এলে মাসুদ ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় রাকিবের বাবা সেলিম হাওলাদার বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর বাবুগঞ্জ থানায় মাসুদ মৃধাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাবুগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবু জাফর হাওলাদার একই বছরের ১৩ নভেম্বর মামলার এজাহারভুক্ত ১১ আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা করেন। এরপর আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মঙ্গলবার এ রায় দেন।
রায়ে মামলার প্রধান আসামি মাসুদ আলম মৃধা, অপর আসামি কালাম মৃধা, কামাল হাওলাদার ও মেহেদী হাসান রাজুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
অপর একটি ধারায় একই মামলার অপর চার আসামিকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সায়েম ফরাজি, আরিফ মৃধা, আবদুল হালিম ঘরামি, মো. তুষার ও সিরাজ বয়াতিকে পৃথক দুই ধারায় ১ বছর ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মোক্তার হোসেন, শফিউল আলম শামিম, ইমরুল ফরাজি নামে তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
এমআর





