প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন শেরপুর চাপাতলী পৌর কবরস্থানটির অবস্থা বেহাল। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাপাতলী মহল্লায় তিন একর জমির ওপর গড়ে ওঠা কবরস্থানটিতে নেই কোন শেড, বিশ্রামাগার, পানির ব্যববস্থা, শৌচাগার, অফিস কক্ষসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই। ফলে লাশ দাফন দিতে এসে পৌরবাসীকে পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে।

কবরস্থানে খাদেমের জন্য একটি ভাঙা ঘর থাকলেও নেই কোনো লাশ রাখার শেড এবং কবর জিয়ারতকারীদের বিশ্রামঘর। ফলে বৃষ্টির মৌসুমে ভিজেই লাশের দাফন করতে হয়। লাশ সংরক্ষণ ব্যবস্থাও নেই।

চলতি বছরে আগষ্ট মাস পর্যন্ত এ কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে প্রায় ১০০টি। প্রতি মাসে গড়ে এখানে ১০ থেকে ১৫ জনের লাশ দাফন করা হয়। পৌরসভা থেকে মাত্র ২ হাজার ৬০০ টাকা বেতন দিয়ে কবরস্থানে মাত্র একজন খাদেম রাখা হয়েছে। বৃহৎ কবরস্থানটির রক্ষণাবেক্ষণে আরো খাদেম ও নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন।

কবরস্থানটির মাঝখান দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হওয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে এর পবিত্রতা। এ ছাড়া প্রকাশ্যেই চলে জুয়া, বখাটেদের আড্ডাসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড। পুলিশ অভিযান চালালে কিছুদিন অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও পরে আবার তা পুরোদমে শুরু হয়। এমনকি কবরস্থানের মধ্যে চরানো হয় গরু-ছাগল।

এলাকাবাসীর দাবি, কবরের মাঝখান দিয়ে নির্মিত সড়কটি বন্ধ করে দিয়ে কবরস্থানের চারপাশ দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা জরুরি। এছাড়া কবরস্থানটিতে দীর্ঘদিন থেকে কোনো রকম মাটি ভরাট বা সংস্কারকাজ করা হচ্ছে না। ফলে বর্ষার সময় কবরস্থানের বেশির ভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় কাউন্সিলর কাজী মতিউর রহমান মতি জানান, শেরপুরের এ বিশালাকার প্রাচীন কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নেই কোনো নিজস্ব তহবিল। কোনো সহায়তাও আসে না এখানে।

এ কবরস্থানের চারদিকে প্রাচীর নির্মাণ, লাশ রাখার শেড, জিয়ারতকারী বা দর্শনার্থীদের বিশ্রামাগার, খাদেম ও নাইটগার্ডের জন্য একটি ভবনসহ সার্বিক উন্নয়ন করতে হলে প্রায় কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু পৌরসভা থেকে এ কবরস্থানের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠালেও তা মন্ত্রণালয় থেকে অজ্ঞাত কারণে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান জানান, ‘আমাদের পৌরসভায় কবরস্থানের জন্য যে বরাদ্দ রয়েছে, তা দিয়ে খাদেমের বেতন-ভাতাই চলছে না ঠিকমতো। এ ছাড়া কবরস্থানের ভেতরে দফায় দফায় একট টিউবওয়েল এবং পানির লাইন করে দেওয়া হলেও চোরের উপদ্রবে তা বারবার চুরি হয়ে যায়। তবে প্রাচীন এ পৌরসভার কবরস্থানের উন্নয়নে একটি প্রকল্প তৈরির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন করা যায় কি না, সেটা নিয়েও ভাবা হচ্ছে ‘।

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই