যশোর-খুলনা মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যশোর থেকে নওয়াপাড়া রাজঘাট অর্থাৎ খুলনার শেষ সীমানার পূর্ব পর্যন্ত বেহাল দশায় চালক, যাত্রী, পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ৫ শতাধিক।
যশোর খুলনার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী এ সড়কটির যশোর অংশে খাদ সৃষ্টি হওয়ায় একটু বর্ষা হলেই পানি জমে যায়। কাদা পানির লুকোচুরি খেলায় চালক হার মানে। অনেক সময় ইঞ্জিন চালিত ছোট ছোট যানবাহন বিপাকে পড়ে। খাদের মাপের সাথে গাড়ীর চাকার মাপ মিলিয়ে ড্রাইভিং করতে গিয়ে নাকানী চুবানী খেতে হয়।
সম্প্রতি রাজঘাটে ৭ জনের প্রাণহানির পর সড়ক পথে খুঁড়াখুড়ির কাজ চলছে। যেনতেনভাবে শম্বুক গতিতে কাজ চলছে। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২০ জুলাই এর মধ্যে সব সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও পদ্মবিলা-শাখারীগাতি-ঘুনি রাস্তা গোপালপুর মোড়, নওয়াপাড়া বাজার সড়কের কোন কাজ হয়নি। নূরবাগ মোড় এখন মৃত্যুকূপ।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার জানান, অধিকাংশ ভাঙাচোরা সড়কের কাজ হয়েছে, তবে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হতে পারে এমন স্থানের সংস্কার কাজ আপাতত করা যাচ্ছে না। এগুলো পরে করা হবে। এদিকে নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। এমনকি ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে। মাহে রমজানের পর তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ব্যবসায়িরা।
প্রতিদিন শ’শ’ ট্রাক, বাস, টেম্পুর পাশাপাশি থ্রি হুইলার, নছিমন, করিমন চলাচল করছে। নওয়াপাড়া থেকে প্রতিমাসে হাজার হাজার মণ পাট, সার, সিমেন্ট, চাল, চিনি, গম, ধান, ময়দা পরিবাহিত হয়ে থাকে। চামড়া, চট, সিমেন্ট মিল থেকে রপ্তানীযোগ্য পণ্য এ সড়ক পথে আনা নেয়া করা হয়। দেশের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে নওয়াপাড়া, রূপদিয়া, রাজারহাট, রাজঘাট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এসব মার্কেট সড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে। অথচ মালামাল আর যাত্রী পরিবহণে সড়কের দুর্গতি প্রধান অন্তরায়। এজন্য পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়ছে, শিল্প মালিক, ব্যবসায়িদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। বাজারজাত করার ক্ষেত্রে শিল্প পণ্যের পাশাপাশি কৃষি পণ্যের সমস্যাও কম না।
চলাচল অনুপযোগী সড়কের জনদুর্ভোগ সম্পর্কে অভয়নগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আঃ মালেক বলেন, জাতীয় স্বার্থে মহাসড়কটির যশোরের অংশ মেরামত করা জরুরী।
নওয়াপাড়া খাদ্যশস্য ও সার সমিতির সাঃ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, নওয়াপাড়া তথা যশোরের সর্বস্তরের মানুষের দাবি যশোর-খুলনা মহাসড়কের মেরামত কাজ। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্ত এ দাবি বরাবরই উপেক্ষিত।
প্রিন্সিপাল খায়রুল বাশার জানান, নগরবাসীর চাহিদা পূরণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সজাগ হওয়া দরকার। মটর শ্রমিক ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, মটর শ্রমিকরা ক্ষেপলে অনেক আগেই সড়ক ভালো হয়ে যেত। রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কেউ ভোট পরবর্তী ভাবে না।
অভিযোগ উঠেছে নওয়াপাড়া, বসুন্দিয়া, রূপদিয়া এলাকায় ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত ভ্যান, রিক্সা, থ্রি হুইলার, পল্লী বাইক, নছিমন, করিমন চলাচল করছে। কোন প্রকার ট্রাফিক আইন ছাড়া দেশি তৈরী যানবাহন চলাচল করে দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। সড়কে আরও একটা সমস্যা ফুটপাথ দখলের প্রতিযোগিতা। গুরুত্বপূর্ণ বাসষ্ট্যান্ডগুলোর নিকটে ফলের বাজার বসায় এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করায় সমস্যা আরো ঘনিভূত হয়েছে। সড়কের পাশে সাইনবোর্ড বসিয়ে পিক আওয়ারে লোড আনলোড বন্ধ না কমাতে পারলে সড়কের নিশ্চিন্ত যাত্রা অসম্ভব।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাথর, ইট, খোয়া, রডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদাররা কাজ ওঠাতে পারছে না। তাছাড়া রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের খবরদারি তো রয়েছেই।
ঢাকা, ২২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





