“কোন পরিবারে যখন একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্ম হয়, তখন পরিবারটি সংকোচ বোধ করে। প্রতিবন্ধি ব্যক্তিকে বোঝা মনে করেন। এটা সমর্থনযোগ্য না। এমনটি মনে করা উচিত না।”
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বোঝা না মনে করার পরামর্শ দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
শনিবার দুপুর ৩টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ভিস্যুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি(ভিপস), বেসরকারি প্রতিষ্টান সাইটসেভার্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবন্ধীরা মানুষরা যেন সমাজের অন্য মানুষের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি বলেন, “নারী ও শিশু প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকার বাড়তি কিছু করার কথা ভাবছে। কোন নারী যেন কারো বোঝা না হয়ে উঠে সেজন্য মন্ত্রনালয় তাকে সহযোগিতা করার কথা ভাবছে।”
এ সমাজে প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে বিভিন্ন অপরাধের খবর পাওয়া যায়। সেগুলো প্রতিবন্ধীরা করে না। প্রতিবন্ধীরা যেন সমাজে নিজেদের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে সেজন্য সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর পরামর্শও দেন তিনি।
সভায় ভিপস এর প্রকল্প পরিচালক নাঈম আহমেদ প্রতিবন্ধীদের পক্ষে সরকারের কাছে দশটি সুপারিশ তুলে ধরেন।
সেগুলো হল, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন সাদাছড়ি ব্যবহার করতে পারে সেজন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিশেষ ও সমন্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রদান, সাদাছড়ি ব্যবহারে প্রতিবন্ধীদের উৎসাহিত করা, কারিগরী প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানে প্রতিবন্ধী নারীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা,সমাজে প্রতিবন্ধীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা, জাতীয় সংসদে আনুপাতিক হারে আসন দেয়া।
এছাড়াও গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী বান্ধব অনুষ্ঠান প্রচার, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত, ইমারত, রাস্তা, ফুটপাত ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রতিনিধি বান্ধব করে নির্মানের ক্ষেত্রে নকশা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত ও সাদাছড়ি সম্পর্কে যানবাহন চালককে সতর্ক করা।
এছাড়াও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, ভিপসের সভাপতি মোশাররফ হোসেন মজুমদার, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক জুলফিকার হায়দার, সাইটসেভার্সের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তানভীর হাসান প্রমুখ।
জেইউ/এসএইচ





