পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করে বেড়ানো একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে নগরীর কালা মিয়া বাজার থেকে দুই যুবককে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে তুলে নিয়ে তাদের মোবাইল, টাকাপয়সা কেড়ে নেয় ছিনতাইকারিরা। পরে তাদের নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে যাবার সময় ‘ভূয়া পুলিশ’ সদস্যরা বাকলিয়া থানার চেকপোস্টের মুখে পড়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন হল, হুমায়ন কবির (৪২), ইব্রাহিম খলিল প্রকাশ জসীম (৩০), ইমরান আলী (৩৬), মো.মনা (২২), শাহজাহান হোসেন মুন্না (২০), ইমরান হোসেন শওকত (২০)।
তাদের কাছ থেকে একটি রিভলবার, একটি ছোরা, অয়্যারলেস সেট, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ, ৩টি ছিনতাই করা মোবাইল, আড়াই হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, এরা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ছিনতাই করে বেড়াচ্ছে। ছিনতাই ও ডাকাতি করার জন্য হুমায়ন ২০১২ সালে বিদেশ থেকে ওয়্যারলেস সেট এনেছে। ২০১২ সালে একবার এ চক্রের কয়েকজন সদস্য হাটহাজারি থানায় গ্রেপ্তার হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বান্দরবানে যাবার জন্য সুজন দাশ (২০) ও তার বন্ধু মামুন নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় অপেক্ষা করছিল। এসময় গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনসহ সাতজন এসে তাদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মারধর শুরু করে। এসময় তাদের হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো হয়।
পরে তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল সেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ ৪ হাজার ৮’শ টাকা ছিনতাই করে নেয়। এর মধ্যে দু’জন ছিনতাইকারী তাদের একটি সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
পথে তুলাতলির মোড়ে বাকলিয়া থানার সারপ্রাইজ চেকপোস্টের মুখে পড়ে সিএনজি অটোরিক্সাটি। পুলিশ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে সুজন তাদের বলেন, ‘স্যার, উনারা পুলিশ। আমাকে গ্রেপ্তার করেছেন।’
এসময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে হুমায়ন কবির ও জসীমকে আটক করা হয়। বাকি চারজনকে গভীর রাত পর্যন্ত বাকলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে পুলিশ।
এরপর ঘটনার শিকার সুজন দাশ বাদি হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত চালক ওসমান গণিকে আটক এবং সিএনজি অটোরিক্সাটি উদ্ধার করা যায়নি। তাকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে।
এএইচ





