শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

বুধবার সংস্থাটির সহকারি পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এই আদেশে একইসঙ্গে কোনো শিক্ষক এই নীতিমালা লংঘন করে কোচিং বাণিজ্য করেন কিনা তা মনিটরিংয়ের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। থানা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক পরিচালকরা এই মনিটরিং করবেন।

২০১২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোচিং বাণিজ্য বন্ধের উল্লেখিত নীতিমালা জারি করে। কিন্তু ঘোরতর অভিযোগ আছে, এই নীতিমালা শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জন্য আর্শিবাদ না হয়ে অভিশাপ আকারে নাজিল হয়েছে। শিক্ষকদের রেট বেড়েছে। তারা এখন ঝুঁকি ভাতা যুক্ত করে কোচিংয়ের রেট নির্ধারণ করেছেন। বাড়তি আয়কৃত ওই অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা, অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক এমনকি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পর্যন্ত দেয়া হয়।

এর বাইরে স্কুলেও বিশেষ কোচিংয়ের আয়োজন করা হয়। নীতিমালায় 'প্রয়োজনে বিশেষ কোচিং' এর কথা আছে। কিন্তু সেটা শিক্ষকের বাসা না করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সবল করার জন্য বিধান করা হয়। অথচ এই বিধানটি এখন স্কুলের অর্থ আয়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। রমজানসহ বিভিন্ন বড় ছুটিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে এই কোচিং করানো হয় বিভিন্ন স্কুলে।

এদিকে মাউশির এই নির্দেশনার আগাম খবর পেয়ে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজে গত মাসের শেষের দিকে শিক্ষকদের কোচিং নিষদ্ধি করা হয়। ওই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী গত ১ মে থেকে শিক্ষকরা নিজের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে পারবেন না।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর রাজারবাগে ও খিলগাঁওয়ে আইডিয়াল স্কুলের একজন সহকারি প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে কয়েকদফা গোপন বৈঠক হয়।

ওই বৈঠকে একসপ্তাহ কোচিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সবাই মিলে আবার ফের কোচিং শুরু করবেন এমন সিদ্ধান্তও হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে বুধবার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষের কাছে কোচিংয়ের অনুমতি নিতে যান। সূত্র জানায়, শিক্ষকরা এখন স্কুলেই শুক্র-শনিবার কোচিং আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, কোচিং বন্ধ নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক নিজ স্কুলের ছাত্রছাত্রী পড়াতে পারবেন না। তবে অন্য স্কুলের সর্বোচ্চ ১০জন এক ব্যাচে পড়াতে পারবেন। নিজ স্কুলের দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের এগিয়ে নিতে পড়ানোর প্রয়োজন হলে তা স্কুলই ব্যবস্থা করবে। এজন্য প্রতি বিষয়ে শিক্ষার্থী প্রতি সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা নিতে পারবেন। তবে এই নীতিমালা কোচিং বাণিজ্যকে হালাল করেছে বলে অভিযোগ আছে।

ওএফ