কার্তিকের শেষ ভাগে কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দূর্বাঘাসে পড়ছে মুক্তার দানার মত শিশির কণা। ধান বা কচু পাতায় জমাট বাধছে কুয়াশা। গ্রাম-শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভাপা পিঠার দোকান আর খেঁজুরের গাছ থেকে গাছিদের রস সংগ্রহ সব মিলিয়ে অপরূপ এক শীতের সকাল। শেষ বিকেল থেকে ভোর পর্যন্ত অনবরত কুয়াশা ঝরছে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায়।
কারো কারো জন্য উপভোগ্য হলেও- গরীব, দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য শীতের আগাম আগমনের বার্তা আভাস দিচ্ছে কষ্ট আর দুর্ভোগের। স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা যখন হেমন্তের শীতল হাওয়া মোকাবেলার প্রস্ততি নিচ্ছে, তখন ঝুপড়ি, বস্তি, বাধ বা চরাঞ্চলে কোনমতে মাথা গুজে থাকা গরীব-দুঃখী মানুষের কাছে শীত মানে কষ্টের পাহাড়। গরম কাপড় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এসব দুস্থ মানুষ।
বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগ ভর করেছে শিশু ও বৃদ্ধদের। রোগাক্রান্ত মানুষের ভিড় বাড়ছে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গোপালপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা নাজমা বেগম জানান, শীত নিবারণের জন্য তার ঘরে গরম কাপড় নেই। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত যোগাড় করাই যখন দুষ্কর, তখন গরম কাপড় কেনা তার কাছে স্বপ্নের মত।
বিয়ের পর ছেলে-মেয়েরা কেউ খোঁজ রাখেন না ওই গ্রামের স্বামীহারা বৃদ্ধা বেওয়ার। শীত আসার আগেই তার ঘরের ভাঙা বেড়া দিয়ে কুয়াশা আর শীতের হাওয়া শরীর কাঁপিয়ে তুলছে। হাত-পা টাটায়। পাশের বাড়ির হাছিনা বেগম জানালেন, ঠান্ডা লেগে তার কোলের শিশু কয়েকদিন ধরে সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছে। তিনি জানান, বিকেল বেলা একরকম, আবার রাত বা ভোরে আবহাওয়াটা আরেক রকম।
সমাজসেবী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শীত আসার আগেই সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা যদি গরীব, দুস্থদের একটা করে গরম কাপড় তুলে দেয় তাহলে এই মানুষগুলো শীতের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষ ও পথ শিশুদের জন্য উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকরা বলছেন, গরমের পর হঠাৎ করে ঠান্ডা পড়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবু হানিফ বলেন, প্রতিদিন শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
তিনি বলেন, শীতজনিত রোগের হাত থেকে বাঁচতে শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষকে গরম কাপড় পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ঠান্ডা থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে। বাসি বা ঠান্ডা খাবার খাওয়া যাবে না। শীতজনিত কোনো রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শীত মোকাবেলার জন্য গরীব-দুস্থ মানুষের মধ্যে গরম কাপড় বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল মমিন খান বলেন, প্রতিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে গরম কাপড় বিতরণ করা হয়। শীত মোকাবেলার জন্য এবারো প্রশাসনের পক্ষ থেকে গরম কাপড় বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেআই





