রাজশাহী নগরীর বাজারে প্রতিনিয়তই শাক-সবজির দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেতা সাধারণের বারোটা বাজলেও দাম বাড়ায় সবজি চাষির মুখে হাসি ফুটেছে।

মৌসুমের প্রথম থেকেই লাভের মুখ দেখতে পেয়ে ভবিষ্যত স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে চাষিরা। চাষিরা সবজি টিকিয়ে রাখতে ক্ষেতে ব্যাপক যত্ন নিচ্ছেন।

গত বছরে সবজি চাষে লোকসানে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় এবারে চাষ কম হওয়ায় সবজির দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা। একদিকে বাজারে দাম বেশি, অপরদিকে মাঠে সবজির উৎপাদন বেশি হওয়ায় সবজি চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে দাম নিয়ে চাষিরা ভালো হোচট খায়। কোনো সবজি বাজারে এনে লাভ দূরের কথা শ্রমিক খরচ তোলায় দায় হয়েছিল।

এমনও দিন গেছে চাষিরা বাজারে সবজি বিক্রি করে ভ্যান ভাড়াটাও জোটেনি। পাশাপাশি নিজের পরিশ্রমও বৃথা গেছে। তার প্রভাবে এবারে অনেকে সবজি চাষ করেননি।

প্রকৃত চাষিরা হাল ছেড়ে না দিয়ে একদিকে লাভের আশায় এবং অন্যদিকে মাটির ও তরতাজা সবজি ফসলের টানে দূরে থাকতে পারেননি। তারা যুতসই পদক্ষেপ নিয়ে এবারে সবজি আবাদ করেছেন। সবজির দামে কাঙ্খিত লাভ পাচ্ছেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার পটল চাষি আফাজ উদ্দিন সরকার বলেন, ‘গতবার আমাদের গ্রামের মাঠে প্রায় ১০০ বিঘা সবজির আবাদ ছিল। কিন্তু এবারে অনেক কম দেখছি।’

পবার সবজিখ্যাত এলাকা দাদপুর গ্রামের বিপ্লব কুমার জানান, দাম বাড়ায় এখন সবজি বাজারে আনতেও হচ্ছে না। মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নিচ্ছেন। এতে বাজারে আনার ভাড়া ও খাজনা দুইই সাশ্রয় হচ্ছে। আবার সময় কম লাগছে। সবজি দামে এবার চাষিদের আশার ষোল আনা পূরণ হচ্ছে।

মোহনপুর উপজেলার নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের সবজি চাষি মোবারক হোসেন বলেন, ‘দাম ভালো পাচ্ছি ভালো লাগছে। এ সময়ে প্রতিকেজি বেগুনের দাম ২৫ টাকার নিচে হলে চাষির লোকসান হবে। এ সময়ের বেগুনচাষে প্রচুর কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। তাই উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেড়ে যায়।’

সবজির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আবুল কালাম বলেন, ‘কৃষকেরা ফসলের দাম ভালো পেলে সবারই ভালো লাগে। কৃষকের মধ্যে ফসল চাষের আগ্রহ বেড়ে যায়। তবে কৃষি ফসলের দাম একই রকম থাকে না। উৎপাদন ও আমদানির উপর অনেকটা নির্ভর করে। আমাদের সকলের উচিৎ হবে কৃষি ফসলের দাম মধ্যস্বত্তাভোগিদের পকেটে যেন না যায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা।’

গত কয়েকদিনে জেলার নওহাটা, মৌগাছী ও কানপাড়া বাজারে প্রতি মণ পটল পাইকারি বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৬০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায়। করলা ১ হাজার ২শ ৫০ টাকা থেকে ৪শ টাকা, ঝিঙে ৬শ ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬শ ৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩শ ৫০ টাকা থেকে ৪শ টাকা, বেগুন বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২শ ৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৪শ ৫০ টাকায়।

ঢাকা, ১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ