প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে নাশকতা ও সহিংস ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যখন যাকে পাওয়া যাবে তখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের সাথে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চরম ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ পুড়িয়ে আন্দোলন হয় না এটি তার (খালেদার) শিক্ষা হয়েছে। তবে আমার প্রশ্ন যারা বিবেকবান, শিক্ষিত, সচেতন, তারা কিভাবে বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দেবে, ভোট দেবে? শিক্ষিত-সচেতন মানুষ কখনোই তাদের সমর্থন দিতে পারে না, ভোট দিতে পারে না।
তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, পুড়িয়ে মারার হুকুম দিয়েছে, অর্থ-অস্ত্রের জোগান দিয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাশকতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। কেননা মানুষের জানমাল রা সরকারের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে যা যা করার তাই করা হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে এত মানুষকে পুড়িয়ে মারল! কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে কোনো কথা বলতে শুনিনি। এই সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে নিশ্চুপ কেন?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন, জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর ছাড়াও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ে বেশ কিছু সুপারিশ সভানেত্রীর কাছে পেশ করেন দলটির উপদেষ্টারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই তিনি ঘরে ফিরে গেছেন, আদালতেও হাজিরা দিয়েছেন। তা হলে তিনি কেন এভাবে মানুষ হত্যা করলেন? তবে তার শিা হয়েছে যে মানুষ হত্যা করে আন্দোলন সফল করা যায় না। ভবিষ্যতে সবাই এখান থেকে যেন শিা নেয়।
তিনি আরো বলেন, সরকার উৎখাতের আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত গত তিন মাস ধরে অমানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছে। আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। সেই মানুষকে হত্যা করে এভাবে হত্যা ও মানুষের তি করে তারা কী অর্জন করল? তাদের আন্দোলনে কোনো জনসম্পৃক্ততাও ছিল না।
আন্দোলনের নামে আগুনে দগ্ধ মানুষের যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে বিএনপি-জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একটি জ্বলন্ত মোমবাতির ওপর এক মিনিট হাত রেখে পরীা করলেই বোঝা যাবে পোড়া মানুষের যন্ত্রণা কী? যারা আগুনে পুড়ে অর্ধমৃত অবস্থায় বেঁচে আছে, তাদের সারা জীবন এই অমানুষিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত তিন মাস ধরে যেসব ঘৃণ্য কাজ করেছে- ন্যূনতম মনুষ্যত্ব ও বিবেক থাকলে কেউই তাদের সমর্থন করতে পারে না। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী তার ঘর ছেড়ে অফিসে ৬৫ জনকে নিয়ে দীর্ঘ ৯২ দিন কাটালেন। এই নোংরামির মানে কী? আর যারা সেখানে ছিলেন, তাদেরও কী ঘরবাড়ি নেই। তারা বের হলেন না কেন? মানুষের তি করে তারা কী অর্জনই বা করলেন? অফিসে বসে থেকে হুকুম দিয়ে তিনি নির্বিচারে মানুষ হত্যা করালেন! এত মানুষ হত্যার দায় কে নেবে? এত মানুষ হত্যা করে, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করে বিএনপি নেত্রী কী অর্জন করলেন? এর জবাব একদিন তাকে দিতে হবে।
এএইচ





