বিকাল ৫টা। রাজধানীর ফার্মগেট মোড়। যাত্রাবাড়ি থেকে গাবতলীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা আট নম্বর বাসটি এসে দাঁড়ালো স্ট্যান্ডে। অপেক্ষা করা মানুষজন মৌমাছির ন্যায় হুমড়ি খেয়ে পড়লো বাসের গেটে। কে কার আগে উঠতে পারে তারই প্রতিযোগীতায় যেন সবাই লিপ্ত।

গত ৫ আগস্ট থেকে রাজধানীতে ফিটনেস বিহীন গাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা শূণ্যের কোঁঠায়। যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ জনগণের উপর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় বাসের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের লম্বা সারি। দূর থেকে মনে হতে পারে কোন মানব বন্ধনের সারি অথবা বিক্ষোভের।

তেমনি একজন শহিদুল ইসলাম। অফিস শেষে বাসায় যাওয়ার জন্যে বাংলামটরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। যাবেন কলেজগেট। তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ভাই চল্লিশ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি। বাস আসলেও উঠার জায়গা নায়। কোনটা ফাঁকা পাইলেও ওঠার জন্যে করতে হচ্ছে যুদ্ধ।

তার সাথে কথা বলতে বলতে হাজির হলো যাত্রাবাড়ি থেকে মোহাম্মাদপুর গামী মেশকাত ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের গাড়িটি। যথারীতি কে আগে উঠবে শুরু হলো সেই যুদ্ধ। এরই মধ্যে ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধা বাসের গেটে রীতিমতো ঝুলতে লাগলেন। বাসের হেলপার বৃদ্ধাকে বলছে মহিলা সিট খালি নাই। কিন্তু অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার তিক্ততায় বৃদ্ধা বলছে মোহম্মাদপুরের গাড়ির লোকজনতো এই রকম বলে না। অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি ছাড়ো। উঠতে দাও।

ফার্মগেটে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ইকবাল আহমেদ। যাবেন বনানী। এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তবু মিলছে না বাসের দেখা।

তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, দাঁড়িয়ে থেকে আর ভালো লাগছে না মনে হচ্ছে হেটে গেলে এতক্ষনে চলে যেতাম। কোন বাসের দেখা নাই। তার মধ্যে আবার কিছু কিছু বাস গেট বন্ধ করে আসছে। আর অধিকাংশই পরিপূর্ণ।

রাজধানীতে যখন গণপরিবহণের এমন সংকট। ঠিক এরই মধ্যে কিছু সংখ্যক গণপরিবহণ রিজার্ভ আকারে “স্টাফবাস”লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে গেট বন্ধ করে চলাচল করছে। যার ফলে সাধারণ জনগণের ভোগান্তির সাথে যোগ হয়েছে আরও একটু বিড়ম্বনা।

ফার্মগেটে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা আমিনুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, এমনিতেই ঢাকা শহরে যাত্রীদের থেকে বাস কম। তার মধ্যে এখন আবার অভিযান। দেখি কত ফিটনেস ওয়ালা গাড়ি নামায়।

তিনি বলেন, দেখেন কতগুলো প্রাইভেটকার, সিএনজি আছে। আর কয়টা পাবলিক বাস। যে প্রাইভেট কারগুলো আছে তাতে কতজন লোক আছে? অধিকাংশই ফাঁকা। এদের কারণে আরও একটা সমস্য সৃষ্টি হচ্ছে। সেটা হলো জ্যাম। যার ফলে বাসও দেরি করে আসছে। অপেক্ষা করা যাত্রীর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে একটা বাস আসলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সেই বাসের দিকে।

যাত্রীদের এমন ভোগান্তির ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, গাড়ি যেগুলো কমেছে সেগুলো অবশ্যই ফিটনেস বিহীন গাড়ি এবং যারা কমিয়েছে তারা অইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই কমিয়েছে। আর গাড়ি কিন্তু কমেনি। আপনি দেখতে পারেন বিআরটিএতে গাড়ি কিন্তু লাইন দিয়ে আছে ফিটনেস নেয়ার জন্য।

তিনি আরো বলেন, একটা বৃহত্তর স্বার্থে যদি সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয় সেটা অবশ্যই মেনে নিতে হবে। আর এমন অবস্থা তো বেশিদিন থাকবে না। অবশ্যই ঠিক হয়ে যাবে।

এ অভিযান কতদিন চলবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পাঁচ তারিখ থেকে শুরু করেছি এবং পরিস্থিতি সহনশীল না হওয়া পর্যস্ত আমরা এটা চালিয়ে যাবো।

এমআর/ এআর