নভেম্বরসহ গত ১১ মাসে সারা দেশে দু’হাজার ৭১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন হাজার ৮০ জন নিহত ও সাত হাজার ৯১৮ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সড়ক, মহাসড়ক, জাতীয় সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২০টি জাতীয় দৈনিক, আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা এবং ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

দুর্ঘটনা ও হতাহতের হার গত বছরের তুলনায় কমেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৬২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।

ওই ১১ মাসে সারা দেশে সংঘটিত মোট চার হাজার ২৬৮টি দুর্ঘটনায় আহত হন আরো অন্তত ১২ হাজার ৮৪০ জন। এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা চলতি বছর কমেছে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে’র বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধান সাতটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

কারণগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইন প্রয়োগে শিথিলতা, যানবাহনে লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক নিয়োগ, প্রতিযোগীতামূলকভাবে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ওভারলোডিং ও ওভারটেকিংকালে প্রচলিত বিধি-বিধান লঙ্ঘন, প্রচলিত ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো এবং মহাসড়ক ও জাতীয় সড়কের অনেক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও যান চলাচলের অনুপযোগী বেহাল সড়ক।

অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরজুড়ে গঠনমূলক সংবাদ প্রচারের কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন, রাজপথে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর সরব পদচারণা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা ও পুলিশের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাঁক চিহ্নিত করে সতর্ক সংকেত স্থাপন ও সড়ক সংস্কার।

এমবি