মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধণের অবেদন করা যায়না পঞ্চগড়ে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে। এছাড়া অফিস পিয়ন ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অশোভন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধার মানুষ। একদিকে উৎকোচ প্রদান সেই সাথে কাজের কালক্ষেপণ দুটোতেই এখন চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধণ করতে আসা সাধারণ মানুষদের।

এ ধরনের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবার লাঞ্চিত হয়ে হচ্ছে অনেককেই। প্রতিনিয়ত চলছে ওই অফিসের পিয়ন আর কর্মকর্তার ঘুষ তান্ডপ। দীর্ঘদিন থেকে ভুক্তভোগীরা মুখ বুজে সহ্য করে আসলেও এবার হয়রানি, উৎকোচ গ্রহণ আর অশোভন আচরণ থেকে নিস্তার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক স্কুল শিক্ষক।

অভিযোগে জেলা শহরের ডোকরোপাড়ার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, তার স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে গত বছরের ২৮ অক্টোবর একটি আবেদন করেন তিনি। আবেদনপত্র জমা নিয়ে ১০ ডিসেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের তারিখ দেওয়া হয়।

তিনি ১০ ডিসেম্বর সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে গেলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান তাকে বলেন, আপনার পূর্বের আবেদনের কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে কাগজপত্র দিতে হবে। এ সময় ওই অফিসের পিয়ন আবুল কালাম আজাদ ওই শিক্ষকে বলেন অতিরিক্ত এক হাজার টাকা দিলে ঝামেলা হবেনা।

টাকা না দিলে নতুন করে সব কগজপত্র দিতে হবে। কিন্তু তিনি টাকা না দিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পৌরসভার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, জমির দলিলের ফটোকপি ও বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি জমা দেন। সেই থেকে আবারও তিনি ওই অফিসে ঘুরতে থাকেন। গত ১৫ জুন সকালে তিনি স্ত্রীর সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে আবারও নতুন করে কাগজপত্র দিতে বলেন কর্মকর্তা।

এ সময় ওই শিক্ষক তাকে বারবার ঘুরানোর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর সঙ্গে শোভন আচরণ করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তাদের কথা অনুযায়ী ঘুষ না দেওয়ায় ওই পিয়ন এবং কর্মকর্তা তাকে আটমাস ধরে হয়রানী করাচ্ছে বলে জানান ওই স্কুল শিক্ষক।এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের সমস্যা। সেখানকার সমস্যার জন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এআই