কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কিছু এনজিও প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের অপতৎপরতায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার কিছু রোহিঙ্গার মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল প্রত্যাবাসন কমিশন।
ট্রানজিট ক্যাম্পও প্রস্তুত করা হয়। একইভাবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকেও সব প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু কতিপয় এনজিওর লেলিয়ে দেয়া রোহিঙ্গা নেতাদের উসকানিমূলক কথাবার্তায় পূর্ব নির্ধারিত প্রত্যাবাসন হোঁচট খায়। ভেস্তে গেছে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম। এ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সন্দেহও দেখা দিয়েছে।
উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সেবা দিচ্ছে দেড় শতাধিক দেশি-বিদেশি এনজিও। এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। রোহিঙ্গা সমস্যা জিইয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের উদ্দেশ্য।
এছাড়া একই স্থানে দীর্ঘদিন থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে যাওয়ার পক্ষে নয়। অপরদিকে, স্বেচ্ছায় যারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় তারা কতিপয় এনজিওর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা বিদ্রোহী গ্রুপের হুমকির মুখে পড়েছে। ভয়ে তারা মুখ খুলছে না। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত জামতলী ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা চার দিন ধরে পালিয়ে বেড়ালেও শুক্রবার থেকে তারা আবারও ব্লকে ফিরতে শুরু করেছে। তবে ভয়ে তারা কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছে না। রোহিঙ্গা মো. আলম (৩৩) জানান, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়ার জন্য কানভারি করেছে কিছু এনজিও লোকজন।
এসব এনজিও নজরদারিতে না আনা পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত মো. খালেচ (৩৫) মোবাইল ফোনে জানান, তার স্ত্রী ও সন্তানরা মিয়ানমারে যেতে চায় না। এজন্য তারা ক্যাম্প ছেড়ে কুতুপালংয়ে এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নিতে হলে আগে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এর আগে তারা এনভিসি (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড) গ্রহণ করবে না। মিয়ানমারে ট্রানজিট ক্যাম্পে পাঁচ দিনের বেশি রাখা যাবে না।
তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদেরও একই দাবি বলে তিনি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসার জন্য শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) কয়েকটি দল ক্যাম্পে গেলে তাদের গাড়ি ঘিরে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের আশপাশে প্রত্যাবাসনবিরোধী বেশ কিছু এনজিও এবং আইএনজিও লোকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার মধ্য থেকে দেড়শ’ জনের প্রথম দলটি বৃহস্পতিবার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেসব এনজিও কর্মরত আছে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রশাসনকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যাবাসন বিরোধী এনজিওর তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বারবার হোঁচট খাবে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, এখনও সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। তবে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের মুখে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর সাত লাখেরও বেশি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে বসবাস করছে। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ১১ : উখিয়ার মধুরছড়া ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১১ জন দগ্ধ হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে জি-২ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হল- বেলুন বিক্রেতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৪০), হামিদ উল্লাহ (১৩), সরওয়ার (২৫), নুরুল আলম (৩০), আবদুল কাদের (১৬), ফয়েজ উল্লাহ (৪), আনোয়ার খালেদ (৫), এজাজুল হক (১০), আমান উল্লাহ (১১), তসলিমা (১০) ও আলকামা (১০)। আহতদের প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক মো. ইয়াছিন জানান, বেলুনে গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে ১১জন দগ্ধ হয়। আহতদের বেশির ভাগই শিশু। বেলুন ফোলানো দেখতে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল। সূত্র: যুগান্তর।
এসএম





