বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভাস্কর্য কিংবা কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে এখনো তোলপাড় চলছে ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বিশেষ করে ভাষ্কর্য সরানো নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি তা নিয়ে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করছেন অনেকেই। স্ট্যাটাস, কমেন্টে ভাস্কর্য বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করলেও তাদেরকেই অনেকেই এটার মধ্যে রাজনীতিও খুঁজে পেয়েছেন।
তবে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা আর হতাশা ফুটে উঠেছে অনেকের স্ট্যাটাসে কিংবা কমেন্টে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার আলেম যাদের বেশিরভাগই ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে গ্রিক দেবী থেমিসের আদলে গড়া ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলবেন।
ভাস্কর্যটির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "সত্যি কথা বলতে কি আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি এবং প্রধান বিচারপতিকে আমি এই খবরটা দিয়েছি।"
হেফাজত ইসলাম গত কিছুদিন ধরেই ওই ভাস্কর্যটিকে মূর্তি আখ্যায়িত করে সেটি সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিলো। হেফাজতে ইসলামের দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে সমালোচনার ঢেউ বয়ে যায় ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
দু'বছর আগে এই হেফাজত ইসলামই ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলো। সেই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতিঝিলে তাণ্ডব চালানো ও কোরান পুড়ানোর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতের বিরুদ্ধে।
এখন তাদের সাথে বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেকেই ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন তাদের স্ট্যাটাস ও কমেন্টে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজ বৃহস্পতিবার বলেছেন হেফজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন অ্যালায়েন্স হয়ে যায়নি।
তিনি বলেন সরকার বাস্তবতা বিবেচনা করে রাজনীতি করছে। সংখ্যায় কম হলেও কেউ কেউ অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ওপর তাদের আস্থা ব্যক্ত করেছেন।
ফেসবুকে নিজের স্ট্যাটাসে অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে হারুণ অর রশীদ লিখেছেন, "'বাংলা নববর্ষ বাদ দিয়া হিজরি নববর্ষ পালনের প্রস্তাব করছি। লাইক না দিয়া যাবেন না..."
অফিউল হাসনাত রুহিন লিখেছেন, " দেশে যেসব উলঙ্গ ভাস্কর্য (মূর্তি ) আছে তাদেরকে পোশাক পরিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে মাথায় হিজাব ও হাতে তজবীহ ধরিয়ে দিতে পারলে অতীতের মতো ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে ! জয় তেঁতুল"
তায়েব আহমেদ লিখেছেন, "বন্ধুরা, আমি ক্ষমা চেয়ে আবারো একটি প্রশ্ন করতে চাই। মানব জীবনে ভাস্কর্যের (sculpture ) এর উপযোগিতা কি? মানবের যাপিত জীবনে এটা কিভাবে কাজে লাগে? অথবা মানব সমাজে এর উপকারিতা কি কি?"
জাকির হোসেন তমাল লিখেছেন, "আমরা বোধহয় অন্ধকার যুগে আছি! মূর্তি সরানোর পর 'সভ্য সমাজে' ফিরব।"
আবার শেখ হাসিনার ওপর অগাধ আস্থা প্রকাশ করে নাসিম রূপক লিখেছেন,"আমি শেখ হাসিনার চোখে বাংলাদেশ দেখি। কারণ আমি জানি আমি ভুল করতে পারি, শেখ হাসিনা না। যে মানুষটা পরিবারের সবাইকে হারিয়ে প্রতিনিয়ত নিজের জীবন বাজি রেখে অপশক্তির সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে, আমার নিজের চেয়েও তার উপরেই আস্থা বেশি। হা আমার বিবেচনা বোধও নাই। কারণ শেখ হাসিনার বিবেচনাবোধেই আমি শক্তি পাই। আর হ্যাঁ, শেখ হাসিনার চেয়ে বেশি বোঝার জন্য আপনাকে সালাম। তবে সেটা লাল সালাম!!!"
আহম্মদ ফয়েজ লিখেছেন, "হেফাজতের সঙ্গে সরকারে বর্তমান সম্পর্ককে যারা আপস বলছেন, তারা ভুলে আছেন। এটা কৌশল, দল জেতানোর কৌশল। জাতি হারলে হারুক"।
ওয়াসেক বিল্লাহ সৌধ লিখেছেন, "...... ভারতে হিন্দুত্ববাদ যেমন গরুতে এসে ঠেকেছে, সেখানে আমাদের এখানে ইসলাম প্রতিপক্ষ করেছে ভাস্কর্যকে? তাহলে যে পড়েছি, মহানবী (সা.) মক্কা বিজয়ের পর সেখানে থাকা ৬২টি মূর্তির একটিও নিজ হাতে সরাননি, সেই চেতনা কি ইসলাম সম্মত নয়? তার জীবদ্দশায় ৫৮টি মূর্তি সরানো হয়েছিল, সেটা সেসব গোত্রের ইচ্ছায়, আর বাকি চারটি সরানো হয়েছিল তার মৃত্যুর পর। ইসলামের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যদি এগুলো রেখে ইবাদত করা যায়, তাহলে এখন ভাস্কর্য রেখে ইবাদত হয় না? আমাদের বিচার ব্যবস্থাও তো ইসলামী শরিয়া আইন মোতাবেক নয়। সেটাও কি পাল্টে দেবেন হেফাজতের কথায়?" খসরু চৌধুরী লিখেছেন, "দেশে এখন যেটা চলছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান কি এর চেয়ে বেশী কিছু চেয়ে ছিল "?
শ্যামল শিশির লিখেছেন, "একই সরকার একই সময়ে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছে এবং উগ্রবাদের পরিচর্যাকে ফরয ইবাদত হিসেবে পালন করছে"।
অসীম চক্রবর্তী লিখেছেন, "আপনাদের আপথে, বেপথে হাটতে দেখলে আমাদের কষ্ট হয়। যাদের খুশি করতে চাইছেন এদের জীবন দিয়েও খুশি করতে পারবেন না। আর এরা জীবন গেলেও নৌকায় ভোট দেবে না। শত্রুকে আপন করতে গিয়ে মিত্রকে শত্রু বানাচ্ছেন"।
আব্দুল্লাহ আল কাফী খালেদা জিয়ার সাথে গোলাম আজমের আর শেখ হাসিনা সাথে আহমদ শফির ছবি পাশাপাশি পোস্ট করে লিখেছেন, " এ দু ছবির মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কী"
শওগাত আলী সাগর লিখেছেন, "আজকে যারা গ্রীক মূর্তি সরাতে বলে, একদিন তারা শেখ মুজিবের মূর্তিও সরাতে বলবে"।
বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে কমেন্ট এসেছে অসংখ্য। তাদের কেউ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা, আবার কেউ প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ বিষয়টিকে সরকারের রাজনীতি বা কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মো: মনজুর হোসেন লিখেছেন: আগামী নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের সমর্থন এবং ভোট নেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।।
আবুল হোসেন লিখেছেন: শেখ হাসিনা কে নিয়ে দয়া করে মন্তব্য করবেন না কারণ তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী কি করলে দেশ ও দেশের মানুষ ভাল থাকবে তা তিনিই ভাল বুঝেন।
সোহেল আহম্মদ লিখেছেন: বাংলাদেশকে জন্য কোনটা ভালো এবং দরকারি এটা বাংলাদের "প্রধান মন্ত্রী " ভালভাবেই বুঝেন।
আরিফ আহমেদ লিখেছেন: একজন হেফাজতে আটকে আছেন, অন্যজন জামায়াতে।এরা কখনোই এদের ছাড়তে পারবে বলে মনে হয় না।মুখে যতই বলুক অসাম্প্রদায়িক আসলে সবই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ছাড়া কিছুই না।।।।
আবু সাবিত লিখেছেন: আলেম ওলামাদের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। কায়সার উজ্জামান লিখেছেন: অযৌক্তিক সব সময় হারবে। মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী। দেশের সার্বভৌম,ঐতিহ্যে এবং স্বকীয় সংস্কৃতি রক্ষা পেল।(বিবিসি)
এমবি





