পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরে দীর্ঘ ৬৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হবে বলেই আশা করছেন ভারত-বাংলাদেশের ১৬২ ছিটমহলের অধিবাসীরা।

ছিটমহল বিনিময়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেবেন এমন প্রত্যাশা তাদের। তার ঢাকা সফর এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

ছিটমহল বিনিময় অনিবার্য হয়ে ওঠার আগেই মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাদেশ ও পশ্চিমবাংলার মানুষের হৃদয়ে আসতে চান বলে মনে করছেন ছিটমহল বিনিময় বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা। কারণ চুক্তি হলে বাংলাদেশি ছিটমহলগুলো হবে ভারতের অন্তর্ভূক্ত। যার বেশির ভাগই কোচবিহার জেলার অর্ন্তভূক্ত হবে। ওইসব ছিটমহলের বাসিন্দাদের সমর্থন তৃণমূলের পক্ষে টানতেই ওই তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে শুক্রবার এভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় বাস্তবায়ন সমন্বয় কমিটির সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।

অপরদিকে, কমিটির ভারত অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খাঁন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভারতের পশ্চিমবাংলার মূখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের মধ্যদিয়ে অবরুদ্ধ ছিটমহলবাসীদের ৬৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাবেন।

১৫০ নং ভারতীয় ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমরা মূল ভূখণ্ড বাংলাদেশে মিশে যাচ্ছি। মমতা দিদি অবশ্যই আমাদের দুঃখ দুর্দশা বুঝেই বাংলাদেশ সফর করছেন।’

প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৮টি, লালমনিরহাট জেলায় ৩৩টিসহ মোট ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। এই ছিটমহলগুলোর আয়তন প্রায় ১১০ দশমিক ২ একর। অপরদিকে বাংলাদেশের ভু-খণ্ডে ভারতের কোচবিহার জেলার অধীনে ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। যার আয়তন ১৭ হাজার ৯শ ৫৮ দশমিক ৫ একর। এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারী জেলায় ৪টি ছিটমহল রয়েছে। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ছিটমহল বিনিময়ে প্রটোকল স্বাক্ষর হয়। সেই থেকে ছিটমহল বিনিয়ম চুক্তি আলোর মুখ দেখে। সেই আলো আরো ছড়িয়ে পড়ে মমতার বাংলাদেশ সফরের মধ্যে দিয়ে।

জেআই