রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় গণধর্ষণের অপবাদ সইতে না পেরে ফাতেমা বেগম (২৬) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে তার স্বামী সোহেল শেখ অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি রহস্যজনক।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। পুলিশ ফাতেমার স্বামী সোহেল শেখের বরাতদিয়ে জানায়, তাদের বাসা দক্ষিণখান ফায়দাবাদ ছাপড়া মসজিদ এলাকায়। ফাতেমার সঙ্গে এটি তার তৃতীয় বিয়ে।

গত জুন মাসে ফাতেমাকে বিয়ে করেছেন তিনি। আর ফাতেমার এটা দ্বিতীয় বিয়ে। তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সোহেলের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় তাদের বাড়িওয়ালা আলী আহমদ, রানা, আলমগীর, নাজমুলসহ চারজন মিলে তার স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে। ভয়ে তার স্ত্রী ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে বলেননি। চলতি মাসে তিনি জানতে পারেন।

গত ৪ অক্টোবর দক্ষিণখান থানায় চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন তিনি। সেই মামলায় আলী আহমেদ ও রানা কারাগারে আছে। গত দুইদিন আগে মামলা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে ঝগড়া হয়। কেন ফাতেমা আত্মহত্যা করেছে, তা বলতে পারেননি সোহেল।
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নুল আবেদীন জানান, সন্ধ্যায় বাসায় এসে সোহেল ফাতেমাকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তিনি জানান, মামলার ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। গত পরশুদিনও তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ কারণেই ফাতেমা আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ফাতেমা গত জুনে গণধর্ষণের শিকার হন এবং গত ৪ অক্টোবর তিনি নিজে বাদী হয়ে থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় দুই আসামি কারাগারে আছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, শুক্রবার রাতে রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর ১১ নম্বর সেকশন বড় মসজিদের পাশে ছুরিকাঘাতে রিপন (২৬) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে রিপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ বক্সের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পারভীন নামে এক মহিলা রিপনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এ সময় মৃতের বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তবে,পারভীন জানিয়েছেন, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশন বড় মসজিদের সামনে রিপনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রিপনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত রিপনের ভাই একরামুল হকের উদ্বৃতি দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, রিপন কারওয়ান বাজার খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় থাকতেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন রিপন। তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায়। বাবার নাম আব্দুর রহমান।

অন্যদিকে, ডিএমপির পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী ছুরিকাঘাতে এক যুবক মারা যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

এএস