অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু এখন একটি আতঙ্কের নাম। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে ১০ হাজার ৫২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যা বিগত বছরের সবগুলো রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৬৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর এই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলো। রোগী নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে নগরবাসীদের।
প্রায় দেড় যুগ আগে ২০০২ সালে দেশে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ২৩২ জন আক্রান্ত হন। তবে ২০০০ সালে ৯৩ জনের মৃত্যুর রেকর্ডই ছিল সর্বাধিক। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অর্থাৎ ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১৪৮ জন আক্রান্ত হয়ে নতুন রেকর্ড করেছিল। মৃতের সংখ্যা ছিল ২৬।
চলতি বছরের সাত মাস শেষ হওয়ার আগেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫২৮। ফলে ২০১৮ সালের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড স্থাপিত হলো।
শুধু তাই নয়, গত বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৫ হাজার ৫০ জন। এ বছর জানুয়ারিতে ৩৭, ফেব্রুয়ারিতে ১৯, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৮৪, জুনে ১ হাজার ৮২৯ ও জুলাইয়ে (২৭ জুলাই পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৮ হাজার ৩৮৪।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩৩ জন। এছাড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৬ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাতপাতালে ৪৯ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২৪ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩২ জন, ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন, ইবনেসিনা হাসপাতালে ১৪ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ১২ জন ও সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৩১ জন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেল্থ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে চলতি বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৫২৮ ডেঙ্গু রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। তবে এ বছর মৃতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম মাত্র ৮ জন।
তবে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, চলতি মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা গত বছরের ২৬ জনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
জেড





