এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক ও আনুসন্ধানী কর্মকর্তা মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী গতকাল বুধবার কমিশনের মহা পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিনের দফতরে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দেন।
ওই প্রতিবেদনে এলজিইডি'র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৫ অক্টোবর নোটিশ পাঠিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে গত ২৩ অক্টোবর দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদকালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ওয়াহিদুরের সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওইসব কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
জানা যায়, শুধু ওয়াহিদুর রহমান একা নন, তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন এবং শ্যালক মো. মহিউদ্দিনও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে দুদকের আগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাও (এনএসআই) ওয়াহিদুর রহমানের সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত করে। এনএসআই’র তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই দুদক অনুসন্ধান করে।
অনুসন্ধান কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওয়াহিদুর রহমানের চাকরি সংক্রান্ত কাগজপত্র দুদকে পাঠায়।
দুদক থেকে লেখা চিঠিতে ওয়াহিদুর রহমান সম্পর্কে যেসব তথ্য চাওয়া হয় তারমধ্যে রয়েছে- (১) চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন কিনা, (২) মুক্তিবার্তায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছিল কিনা, (৩) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত সনদ গ্রহণ করেছেন কিনা এবং (৪) মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কোন ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং কোন সেক্টরে কোন অধিনায়কের/কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন।
ওয়াহিদুর রহমান সম্পর্কে যেসব তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, ওয়াহিদুর রহমান চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেননি। মুক্তিবার্তার লাল বইটিতে তার নাম প্রকাশিত হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত সনদও তিনি পাননি।
জানা যায়, কোন সেক্টরে ট্রেনিং বা কোন অধিনায়কের অধীনে যুদ্ধ করেছেন- এ সংক্রান্ত প্রমাণ হাজির করতে পারেনি ওয়াহিদুর রহমান। তবে বর্তমান রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকসহ বেশ কয়জন মন্ত্রী এবং নেতাকে দিয়ে তদবির করান।
এদিকে, ওয়াহিদুর রহমানের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ও শ্যালক মহিউদ্দিনের সার্টিফিকেট জালিয়াতির তদন্ত করছেন এনএসআই। মুক্তিযুদ্ধের সময় সুফিয়া খাতুনের বয়স ছিলো ৯ বছর। তাছাড়া এখন তিনি যে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন তাতে স্বামীর নাম নেই। স্বামীর নামের পরিবর্তে পিতা মৃত ফৈজদ্দিনের নাম দেখিয়েছেন সার্টিফিকেটে। গ্রাম-যন্ত্রাইল, উপজেলা-নবাবগঞ্জ, জেলা- ঢাকা। কেন তিনি স্বামীর নাম গোপন রাখলেন, এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা নবাবগঞ্জের সাবেক থানা কমান্ডার তার এলাকার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি পাঠান। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছে সুফিয়া খাতুন ও ২ নম্বরে মো. মহি উদ্দিনের নাম।
সাবেক এই থানা কমান্ডারের চিঠিতে বলা হয়, এদের নাম মুক্তিবার্তায় নেই। তারপরও তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন তাজকে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এদের নামে অবৈধভাবে গেজেট প্রকাশ করানো হয়। তিনি এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করার অনুরোধ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি এনএসআই-তে তদন্তের জন্য পাঠান বলে জানা যায়।
একে, জেএ





