নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার জন্য আরও এক মাস সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার ইসি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। এসময় ৪ কমিশনার, ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন।

নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ ১৪টি
দলের সময় বাড়ানোর আবেদনের কারনে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সে অনুযায়ী দলগুলোর ২০১৩ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।

নির্ধারিত সময়ে প্রধান দলগুলো আর্থিক হিসাব কমিশনে দিতে ব্যর্থ হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও তাদের হিসাব দেয়ার জন্য এক মাসের সময় চেয়ে (১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ) সময় চেয়ে কমিশনে আবেদন করে।

আর বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছে। অন্যদিকে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপি ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে আবেদন করেছে। এছাড়া নিবন্ধিত ৪০ দলের মধ্যে ১৪টি দলই সময় বাড়ানোর আবেদন করে। বাকিরা নির্ধারিত সময়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে।

এ বিষয়ে  নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, অডিট রিপোর্ট জমা দিতে এবার এক মাস সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে চিঠি দেয়া হবে।

সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে যে ১৪টি দল সেগুলো হচ্ছে- আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি), জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, গণফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট(বিএনএফ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ও গণফ্রন্ট।

২৬টি দল আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি,প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল(পিডিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি,

বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল),ইসলামী ঐক্যজোট, গণতন্ত্রী
পার্টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের বিপ্লবী
ওয়াকার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি(জেপি),

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, জমিয়েতে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি(জাগপা) এবং ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন।

উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন অবৈধ থাকায় এবার হিসাবের তালিকা জমা দিতে হবেনা বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর।

ঢাকা, এএম, ৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর