বিদেশী নাগরিকের কাছে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে তারা বৈধ না অবৈধ তা যাচাই করে নেওয়ার জন্য বাড়িওয়ালাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ৩১ বিদেশী নাগরিককে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এ ঘটনায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, রাজধানীর ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী বেশিরভাগ নাগরিক আফ্রিকান। তাদের অনেকে অবৈধভাবে বাস করে আসছেন। আটককৃত ৩১ বিদেশী নাগরিকের মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকান এবং তারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকরা খুন, প্রতারণা, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কাজ করছে।
এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোররাতে ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে রাজধানীতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের ৩১ নাগরিকদের আটক করে। অভিযানটি রামপুরা, গুলশান, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানার মোট ১৪৭টি বাড়িতে পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রামপুরা থানার বনশ্রী এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৩জন গাম্বিয়ান, একজন সেনেগাল, দুইজন উগান্ডা ও ৫ জন নাইজেরিয়ান নাগরিক। তবে দুইজন নাইজেরিয়ান ও একজন গাম্বিয়ান নাগরিকের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্য ৮ জনের বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের এ উপ-কমিশনার বলেন, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে তিনজন উগান্ডা ও একজন কেনিয়ার নাগরিক।
উত্তরা থেকে আটক করা হয় ১৬ জনকে। এদের মধ্যে দুইজন মহিলা। এছাড়া ৭ জন নাইজেরিয়ান, ৪ জন ক্যামেরুন, দুইজন আইভোরিকোস্ট, একজন টোগো, একজন মালি ও একজন মোজাম্বিকের নাগরিক। তাদের সকলের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, আটক অবৈধ বিদেশী নাগরিকরা কেন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাংলাদেশে অবস্থান করছিল তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক বিদেশীদের মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকান নাগরিক। এরা স্টুডেন্ট ও টুরিষ্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। তারা বড় কোন অপরাধে জড়িত কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, এর আগেও নাইজেরিয়ান এক নাগরিক একজনকে হত্যার সাথে জড়িত ছিল এবং আফ্রিকান কয়েকজন নাগরিক মাদক ব্যবসা ও বৈদেশিক মূদ্রা জালের দায়ে আটক হয়েছেন। অনেক অভিযোগ আসে, কিন্তু আসল অপরাধীদের তখন খুজে পাওয়া যায় না। কারণ অভিযোগ পাওয়ার আগেই তারা নিজ দেশে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, পুলিশের (মিডিয়া) উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান, এডিসি (দক্ষিণ) আব্দুল আহাদ প্রমুখ।
জেইউ/জেএ/জেআই





