দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে পায়রা সমুদ্র বন্দর।

পদ্মা সেতু নির্মাণের পর এই সমুদ্র বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ‌্যমে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ‌্য খালাস কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে গণভবনের অনুষ্ঠানে যুক্ত হন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

এসময় প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, এখানে সমূদ্র বন্দরের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাহাজ রিসাইক্লিং কেন্দ্র, পদ্মা সেতু হতে পায়রা পর্যন্ত রেল চালুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড করা হচ্ছে।

যেখানে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান হবে।আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। তাই এই অঞ্চলের মানুষ আর গরীব থাকবে না।

বন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো যুক্ত ছিলেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইম আসম ফিরোজ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির প্রাক্তন সভাপতি নূরে আলম চৌধুরী, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান, পায়রা বন্দরের প্রথম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানসহ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়ে ওই বছরের ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় `পায়রা সমুদ্রবন্দর` প্রকল্প। ওই বছরের ১৯ নভেম্বর বন্দরের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রামনাবাদ চ্যানেলের লালুয়া ও ধুলাসার থেকে প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।ইতোমধ্যে ১৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে জেটি, অত্যাধুনিক কনটেইনার ইয়ার্ড, শুল্ক স্টেশন ও নিরাপত্তা ভবন।

এক হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের তৃতীয় এই বন্দর নির্মাণ করে এ অঞ্চলকে বিশেষ একটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে হাতে নেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী ও চতুর্মুখী পরিকল্পনা।

বন্দর উদ্বোধনের পর ২০১৮ সালে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর আগ পর্যন্ত কয়েকটি নির্দিষ্ট সেবা প্রদানের জন্য কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বর্হিনোঙ্গরে জাহাজের মাল খালাস করা হবে। এ সকল পণ্য লাইটারেজ জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানো হবে।

এসএম