বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে নন-সাবমিশন মামলায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার কমিশন এ চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিগগিরই এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর রমনা থানায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলা (মামলা নং-৫২) দায়ের করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক আর কে মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারির পর কমিশনে নির্দিষ্ট সময়ে সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অপরাধে ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি ইকবাল মান্দ বানুর বরাবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে দুদক। ওই নোটিশ ইকবাল মান্দ বানুর পক্ষে তার বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন গ্রহণ করেন।
অভিযুক্ত ইকবাল মান্দ বানু বরাবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হলে তিনি ওই নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (রিট পিটিশন নং-৯৭৮/২০১২) দায়ের করেন এবং স্থগিতাদেশ প্রাপ্ত হন।
পরবর্তী সময়ে কমিশনের পক্ষে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বরাবর সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (আপিল নং-৯৯১/১৩) দায়ের করা হলে হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশ স্থগিত করা হয়।
আপিল বিভাগ সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রিট পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন।
আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকায় বর্তমানে ওই রিট-সংশ্লিষ্ট দুদকের কার্যক্রম পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা না থাকায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের ২৯ মে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে চার কোটি ২৩ লাখ আট হাজার ৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ সর্বমোট চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক রহমান, স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪- এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারাসহ জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ১৫ (ঘ) ধারায় মামলা (মামলা নং-৫২) দায়ের করে দুদক।
সূত্র আরও জানায়, ওই চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদের মধ্যে জোবাইদা রহমানের নামে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া যায়।
তারেক রহমানের দাবি অনুসারে ওই এফডিআরের অর্থ তার শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু মেয়ে জোবাইদা রহমানকে দান করেছেন।
দুদকের তদন্তে ওই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং জোবাইদা রহমান ও ইকবাল মান্দ বানুর মাধ্যমে তারেক রহমানের অবৈধ আয়কে বৈধ করার অপচেষ্টায় সহায়তা করেছে মর্মে প্রমাণিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ আদালতে মামলাটির চার্জশিট (চার্জশিট নং-৭৮) দাখিল করা হয়।
এমকে





