রাজধানীর উত্তরা (পূর্ব) থানার ৪ নম্বর সেক্টরে সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটনকে গুলি করে হত্যা ও ফাতেমা তুজ জহুরাকে (১৭) অপহরণের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে সোহেল রানা ওরফে সোহেলকে (২৯) ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল জানায় ওই ঘটনায় তাদের দলনেতা ছিল শফিক ওরফে আপন। আপনের নেতৃত্বে রনি, শিমুল, আলামিন ও সে একত্রে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাদা রংয়ের এফ প্রিমিও গাড়িতে ছিনতাই করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায়, ৩ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় সহযোগী রনি তাকে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের গোড়ায় যেতে বলে। সেখানে গিয়ে সে প্রাইভেট কারে শফিক ওরফে আপন, রনি, শিমুল ও আলামিনকে দেখতে পায়। তারপর তারা একত্রে এফ প্রিমিও প্রাইভেট কার যোগে প্রথমে গুলশান এলাকায় একটি মেয়েকে গাড়িতে তুলে। ওই মেয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়।

সোহেল পুলিশকে আরও জানায়, এরপর তারা উত্তরা এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশে যায়। উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৪নং সেক্টর এলাকায় একটি সুন্দরী মেয়েকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থামায়। তারা জোরপূর্বক ওই মেয়েটিকে গাড়িতে তোলার চেষ্টাকালে প্রতিরোধে কিছু লোক এগিয়ে আসে। তখন তাদের সহযোগী শফিক ওরফে আপন গুলি করে। অন্য একজন প্রতিরোধকারীকে সে নিজে চাঁপাতি দিয়ে আঘাত করে মেয়েটিকে নিয়ে গাজীপুরের কালিগঞ্জের দিকে যায়।

তাদের দলনেতা আপন মেয়েটিকে গাড়ির মধ্যেই শারীরিক নির্যাতন করে বলেও সে জানায়। পরের দিন ভোর বেলা তারা মেয়েটিকে উত্তরা এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, অপহরণের সময় আপনের গুলিতে সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটন নিহত হয়। দলনেতা আপন ১৭ জুন হাতিরঝিল এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায়। ডিবি পুলিশ হাতিরঝিল ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল ২ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ রাউন্ড গুলির খোসা ও ৩টি মোবাইল এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রংয়ের প্রিমিও প্রাইভেট কার উদ্ধার করে।

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ