বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল ও বাংলাদেশ সরকারের সমন্বয়ে গঠিত সমীক্ষা দলের প্রতিবেদনকে ‘অগ্রহণযোগ্য, অপূর্ণাঙ্গ ও বিজ্ঞানভিত্তিক নয়’ বলে দাবি করেছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা)।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ মতামত প্রকাশ করা হয়।

গত ৯ ডিসেম্বর তেলবাহী জাহাজডুবিতে সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সুন্দরবন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল ও বাংলাদেশ সরকারের সমন্বয়ে গঠিত সমীক্ষা দল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন বলেন, জাতিসংঘ ও সরকারের সমন্বয়ে দেওয়া প্রতিবেদন অপূর্ণাঙ্গ, আংশিক। এটি বিজ্ঞানসম্মত নয়। প্রতিবেদন তৈরিতে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।

তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডলফিন,কাঁকড়া, কুমির ও চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ ও পোকামাকড়সহ সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় সুন্দরী ও কেওড়া গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজডুবির ঘটনায় পরপরই বাপার বিশেষজ্ঞ দল ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা গিয়েছিলেন। তারা সবকিছু দেখে জানিয়েছিলেন, সুন্দরবনের গাছের শ্বাসমূলে তেলের আস্তরণ পড়েছে। সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ ও সরকারের সমন্বয়ে গঠিত সমীক্ষা দলের প্রতিবেদনের এসব উঠে আসেনি।’

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মাকসুদ বলেন, ‘সুন্দরবন নিয়ে দেওয়া প্রতিবেদন বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। এটা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল সুন্দরবন নিয়ে আমাদের একটি রচনা উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এর অনুমোদন দিয়েছে মাত্র। প্রতিবেদনে সুন্দরবনের যে ক্ষতি হয়েছে তার সবকিছু উঠে আসেনি। তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কী ক্ষতি হবে তা নেই।’

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দল ও দেশের বিশেষজ্ঞরা সুন্দরবন নিয়ে যেসব গবেষণা করেছে বা ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলেছে, তা সমন্বিতভাবে সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ‘জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দল ও সরকারের সমন্বয়ে গঠিত ৪টি উপদলে মোট ১৮ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। যৌথ দল দুর্ঘটনার কারণ মোটেও পর্যালোচনা করেনি এবং উদ্বিগ্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন ও এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাউকে সম্পৃক্ত করেনি।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল ও সরকারের সমন্বয়ে প্রতিনিধি দলের সমীক্ষা প্রতিবেদনে ভাটার সময় দুর্ঘটনা ঘটায় বনের অভ্যন্তরে তেল প্রবেশ করেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে দুর্ঘটনার পর ভরা পূর্ণিমার জোয়ারে তেল বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে শ্বাসমূলে তেলের আস্তরণ পড়েছে বলে গণমাধ্যম ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের তথ্যচিত্রে প্রকাশিত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, শেখ ফরিদুল ইসলাম, জে কে বড়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ