প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, এটা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

তবে চুক্তির ধারা বাস্তবায়নের সংখ্যা হিসাব না করে বস্তুনিষ্ঠভাবে চুক্তিটি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটা দেখাই মূল বিষয়।’

রোববার রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার সেন্টারের এ এস মাহমুদ সেমিনার হলে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮ বছর : স্থানীয় জনগণের অধিকার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মঙ্গল কুমার চাকমা।

গওহর রিজভী বলেন, ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচিভিত্তিক রোডম্যাপ ঘোষণা করে এগোনোর বিকল্প নেই। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সব চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।

এর পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ঢাকার মিন্টো রোডে একটি স্থায়ী লিয়াজোঁ অফিস খুব শিগগির তৈরি করা হবে।’

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘চুক্তি করে চুক্তি প্রতিপালন না করা কোনো সভ্যতা নয়। যদি এরকম করা হয়, তবে সেটি হবে লজ্জার বিষয়। আমি মনে করি, ভূমি মালিকানার সমস্যাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের এক নম্বর সমস্যা।’

এ ছাড়া পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি, পাহাড়ি নারীদের প্রতি সহিংসতা, ব্যবসার মালিকানা বাঙালিদের হাতে চলে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

মিজানুর রহমান আরো বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে তিনটি সরকার ব্যবস্থা চালু আছে- একটি সন্তু লারমার সরকার, দ্বিতীয়টি সামরিক সরকার এবং তৃতীয়টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। এ অবস্থা থেকে আমাদের অবিলম্বে উত্তরণ প্রয়োজন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। শক্তি দিয়ে বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোথাও শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি। পাহাড়ে সামরিক শাসন বন্ধ করে সবাইকে নিয়ে মেলবন্ধন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, শান্তি চুক্তি হয়েছে আজ ১৮ বছর হতে চলল।

কিন্তু এখন পর্যন্ত চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সব চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্ট নয়। কেন সরকার কার্যকর ভূমিকা থেকে দূরে থাকছে, তা বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বহুবিধ প্রশাসন ও কর্তৃত্ব চলছে, যেটাকে এককথায় অরাজকতা বলা যেতে পারে। সেখানে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সেখানকার কোনো মানুষের নিরাপত্তা নেই। আমি নিজেই নিরাপদ নই।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো কিছুটা বাস্তবায়িত হলে হয়তো আমরা কিছুটা শান্তিতে থাকতাম। কিন্তু কবে এমন পরিস্থিতি আসবে, তা জানি না।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সেনাবাহিনী আছে, তাদের বহুবার জিজ্ঞেস করেছি, আপানাদের আসলে দায়িত্বটা কী?

আমি যতদূর জানি, লিখিতভাবে বলা আছে, সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার জন্যে অপারেশন উত্তরণ নামে সেনাবাহিনী সহায়তা করবে। কিন্তু আদতে কি তারা সহায়তা করছে, নাকি তারাই সবকিছু করছে।

আজকে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ে বাঙালি-আদিবাসী সংখ্যা সমান হয়ে গেছে। কিন্তু এত দ্রুত পাহাড়ের এই সংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণ কী? রাজনৈতিক কারণেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশিষ রায় প্রমুখ।

এসএইচ