রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম ও জাল ভোট দেয়া এবং কেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠেছে। অনেক কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেয়া, বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মী ও এজেন্টদের হয়রানি এবং জাল ভোটে সহায়তায় সরাসরি পুলিশ সদস্য, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা জড়িত ছিলো। অথচ পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা ছিল ‘সঠিক’। শুধু তাই নয়, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দলটির পূর্ব পরিকল্পনার অংশ ছিলো বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই প্রতিবেদন পাঠানো হয়। প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর সর্থকদের মধ্যে দুই একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সঠিকভাবেই দায়িত্বপালন করেছে।
অথচ নির্বাচনের দিন মঙ্গলবারই বিরোধী জোটের প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের আটক করে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ তোলা হয় প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। সংবাদ সম্মেলনে একই দাবি করেছে বিএনপিও। নির্বাচন কমিশনের অনুমতি থাকা সত্বেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু কেন্দ্রে গণমাধ্যম কর্মীদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। তবে কেন্দ্রগুলোতে সরকারদলীয় কর্মী পরিচয়ে বহিরাগতদের ছিল অবাধ বিচারণ। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কর্তা ব্যক্তিদের হুংকারও কাজে আসেনি।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘কোনো পুলিশ সদস্য যদি সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা হয়রানি করে থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্র দখল বা জাল ভোট প্রদানে পুলিশ সহায়তা করতেই পারে না।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিভিন্ন কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে পুলিশের বিভিন্ন অনিয়ম চোখে পড়েছে। তাদের সহায়তায় শাসক দলের নেতাকর্মীরা ছিল বেপরোয়া। কেন্দ্র দখল করে পুলিশের সামনেই ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে তারা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ‘নিবার্চনের সময় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অভিযোগ পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিকই ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ সঠিকভাবেই দায়িত্বপালন করেছে বলেই তথ্য রয়েছে আমাদের কাছে।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির ভোট বর্জনের আগে সকালে যখন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল তখন কোনো ভোটার, এমনকি বিএনপি প্রার্থীদের এজেন্টরাও কোনো অভিযোগ করেনি। কেন্দ্রের ভেতরে কেউ তাদের কোনো ভয় ভীতি বা হুমকি ধামকি দিয়েছে কিনা তা নির্বাচন কেন্দ্রে মেতায়েন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা মোবাইল টিম বা পুলিশের অন্য কোন ইউনিটকে অভিযোগ করেননি।
একটি মহল নির্বাচনে পুলিশকে জড়িয়ে অমূলক এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে বলে দাবি করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্বপালনরত পুলিশ সদস্যরা ‘সঠিক’ ভূমিকাতেই ছিলেন। ভোট কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এজেন্ট মোতায়েন করবেন কি করবেন না- এটি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশন ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব বিষয়।
পুলিশের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সকল ভোট কেন্দ্রেই মিডিয়াকর্মী এবং পর্যবেক্ষকরা ‘অবাধ’ যাতায়াত করেছেন। কমলাপুর, কদমতলী ও সুরিটোলা কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
জেআই





