স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে এ সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি। এজন্য ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি সংগ্রহে পাঁচ শতাধিক জোড়া ডিভাইস কেনার তাগিদ দিয়েছে তারা।
ইসি সূত্র জানায়, গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, এনআইডি উইং ও কারিগরি টিমের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা।
বৈঠকে স্মার্টকার্ড কার্যক্রমে গতি বাড়াতে চলতি মাসেই সরকারি অর্থায়নে অন্তত প্রতি উপজেলার জন্য এক জোড়া (৫১৭ জোড়া) ডিভাইস কেনার প্রস্তাব আসে, যা দিয়ে বড় পরিসরে স্মার্টকার্ড বিতরণে যাওয়া সম্ভব হবে।
বিতরণ শুরুর পর ১০ মাসেও এক কোটি নাগরিকের হাতে পৌঁছেনি স্মার্টকার্ড। এভাবে চললে অন্তত দুই বছর লাগবে ৯ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছাতে। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত বছরের অক্টোবরে ঢাকা মহানগরীতে স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করে।
এরপর নতুন সিইসি কে এম নূরুল হুদা চলতি বছরের মার্চে চট্টগ্রামে বিতরণ উদ্বোধন করেন। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি সিটি করপোরেশনে স্মার্টকার্ড বিতরণ কাজ চলছে। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে বিতরণে যেতে পারেনি কমিশন।
সূত্র আরও জানায়, ফ্রান্সের একটি সংস্থার সঙ্গে স্মার্টকার্ড সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের পর নতুন সঙ্কটের মধ্যে সরকারের অর্থায়নে প্রযুক্তি কিনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। শুরুতে ২ হাজার জোড়া ডিভাইস কেনার চিন্তা করলেও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় এতো অর্থায়ন নিয়ে আর এগোতে পারছে না সাংবিধানিক সংস্থাটি।
এক্ষেত্রে কারিগরি টিম কাজের সুবিধার্থে প্রত্যেক উপজেলার জন্য অন্তত একজোড়া ডিভাইস কেনার সুপারিশ করেছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলোজিসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে না। সেই সঙ্গে নাগরিকদের স্মার্টকার্ড বিতরণও অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি জানান, ৯ কোটি ভোটারের বিষয়ে চুক্তি থাকলেও এখন দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ১৮ লাখের বেশি। প্রতিবছর বাড়ছে প্রায় ২৫ লাখ করে। তাই দেশীয় জনবল দিয়ে, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশেই স্মার্টকার্ড তৈরির চিন্তা করছে কমিশন এবং এটা সম্ভব।
এমএনজে





