চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে দেশের ৭০৩ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮ টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসবের পাশাপাশি সহিংসতা ও অনিয়মের শংকাও বিরাজ করছে। প্রথম তিন ধাপে সহিংসতা-অনিয়ম এবং এই ধাপের ভোটকে সামনে রেখে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেয়ার কারণেই এ শংকা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে যেসব ইউপিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন সেসব জায়গায় সহিংসতার আশংকা বেশি। বিপুলসংখ্যক চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী তাদের এ শংকার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ভোট গ্রহণের দিন বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছেন। তবে কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মাঠে রয়েছেন।
চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা চাই ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন।
এক্ষেত্রে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনশৃংখলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। প্রার্থীদের শংকার বিষয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকার কিছু নেই। নির্বাচনে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃংখলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন। ইসির কর্মকর্তারা জানান, প্রথম তিন ধাপের মতোই চতুর্থ ধাপে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কমপক্ষে ২০ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীকে চরম সতর্কতামূলক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়ররা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ইতিমধ্যে রাজশাহী ও শেরপুরের দু’জন সংসদ সদস্যকে চিঠি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
ফেনীর একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থান করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
এ নির্বাচনে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা রয়েছে কমিশনের। ইতিমধ্যে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউপির ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে এ নির্বাচনে সহিংসতা ও ভোট কারচুপির শংকা প্রকাশ করে শতাধিক ব্যক্তি ইসিতে চিঠি দিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহা. তোজাম্মেল হক চিঠিতে জানিয়েছেন, ওই ইউপির ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রের ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের আশংকা রয়েছে। এ ইউপিতে বিগত নির্বাচনে ভোট জালিয়াতিসহ ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাই বাড়তি নিরাপত্তা প্রয়োজন।
এছাড়া বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এক চিঠিতে নিজ জেলা নোয়াখালীর অন্তত ৭টি ইউপির নাম উল্লেখ করে সেগুলোতে নিরাপত্তা চেয়েছেন। এছাড়া ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুবেদুজ্জামান (সুবেদ), মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহার ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনসহ অন্যরাও বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছেন।
মাঠে দেড় লক্ষাধিক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য : ইসি সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনীর দেড় লক্ষাধিক সদস্য মাঠে রয়েছেন। প্রতিটি ইউপিতে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে একটি মোবাইল ফোর্স এবং তিনটি ইউপির জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিটি উপজেলায় র্যাবের দুটি মোবাইল ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং বিজিবির দুটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে। এসব সদস্যদের দৃশ্যমানভাবে মুভ করতে বলা হয়েছে। যাতে নির্বাচনী বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের জন্য আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন।
আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহণের পরের দিন রোববার পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এছাড়া আচরণবিধি তদারকিতে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।
চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের তথ্য : ৪৬ জেলার ৮৮টি উপজেলার ৭০৩টি ইউপিতে আজ ভোট গ্রহণ হবে। এতে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬ হাজার ৭২৭টি। মোট ভোটার প্রায় এক কোটি।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজারের বেশি, সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে সাত হাজার এবং সাধারণ সদস্যপদে প্রায় ২৪ হাজার প্রার্থী রয়েছেন। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ৯৮ জন ও সাধারণ সদস্যপদে ২২৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।
এমবি





