জেলার চিলমারী উপজেলায় এক সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ৮ গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এতে প্রায় এক হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধেরদু’পাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হুমকির মুখে রয়েছেশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীপাড়েরমানুষ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত। ইতোমধ্যে উপজেলাররমনা ইউনিয়নের টোনগ্রামের ২৫টি পরিবার, ব্যাপারীপাড়ার ৫০০ পরিবার, হিন্দুপাড়ার ২৫টি পরিবার, মাস্টারপাড়ার ১০টি পরিবার, মুদাফৎ থানার ৩০০পরিবার, বাসন্তী গ্রামের ১০০ পরিবার, জোড়গাছ বাজার এলাকার ৭০টি পরিবার ওঝালোপাড়ার ৫০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধে আশ্রয়নিয়েছেন।

এদিকে হিন্দুপাড়া ও ব্যাপারীপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে তীররক্ষাবাঁধ থেকে প্রায় ১২০ ফুট দূরে ব্রহ্মপুত্র নদ অবস্থান করছে এবং প্রতিনিয়তভাঙন অব্যাহত থাকায় বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে।

এদিকে জোড়গাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নদী প্রায় ৭৫ ফিট দূরে অবস্থান করছে। ফলে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে স্কুলটি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. নাসরিন আরা জানান, স্কুল ভবন দুটিনদীভাঙনের হুমকির মুখে থাকার বিষয়টি তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানালেও এব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হবিবুর রহমান জানান, স্কুল ভবনটিভেঙে গেলে স্কুলকে কোথায় স্থানান্তরিত করা যায় সে জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

অপরদিকে এক সপ্তাহের নদীভাঙনে প্রায় ১২০ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েগেছে। বর্তমানে টোন গ্রাম থেকে জোড়গাছ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটারজুড়ে নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ওশতাধিক বসতভিটা।

চিলমারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, নদীভাঙা পরিবারগুলোকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরজানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, দুই-একদিনের মধ্যে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াহবে।

জেআই