বাংলাদেশের সামরিক খাতে সহযোগিতার জন্য কুয়েতের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সামরিক সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া মন্ত্রিসভা অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের এগ্রিমেন্ট অন কো-অপারেশন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘকালের বন্ধুরাষ্ট্র কুয়েতের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক চুক্তি করবে সরকার। এ চুক্তির ফলে উভয় দেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সামরিক, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যবিরোধী কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞ সাংস্কৃতিক কর্মী বিনিময় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়বে।

মোশাররাফ হোসাইন বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আরো অধিকসংখ্যক সদস্যকে কুয়েতে প্রেষণে নিযুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো আন্তরিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, চুক্তির মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। যদি কোনো পক্ষ চুক্তির মেয়াদ সমাপ্তির ৯০ দিন আগে চুক্তিটি সমাপ্ত করার বিষয়ে অপর কোনো পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে, তাহলে চুক্তির মেয়াদ প্রতিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক বছর হিসেবে বর্ধিত হবে।

প্রস্তাবিত বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, দুই দেশের সার্বভৌমত্ব সমতার নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন সামরিক ক্ষেত্রে উভয় রাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

এই চুক্তির ফলে সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং শারীরিকভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

এ ১৫টি ক্ষেত্র হলো : সামরিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা, দুই দেশের স্থল, নৌ, বিমানবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা, লজিস্টিক, অনুশীলনের জন্য সামরিক পর্যবেক্ষক বিনিময়, প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন এবং সামরিক ক্ষেত্রে নতুন সংযোজিত বিষয়সমূহ, প্রযুক্তি বিনিময় কার্যক্রমসহ প্রতিরক্ষা শিল্প ও উৎপাদনে সহযোগিতা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার নিয়ন্ত্রণ, সামরিক ইতিহাস, সামরিক ঐতিহাসিক দলিলপত্র, সামরিক প্রকাশনা এবং জাদুঘরবিদ্যা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত জনবল বিনিময়, সামরিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও এ-সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা এবং জাহাজনির্মাণ শিল্পে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে (সামরিক ও বেসামরিক) সহযোগিতা।

জেআই