রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর গাড়িবহরের সঙ্গে ফরিদপুরে ট্রাকের সংঘর্ষের পর হামলা-পাল্টা হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
শনিবার সকালে ফরিদপুরের নূরু মিয়া বাইপাস সড়কের পিয়ারপুর এলাকায় এই গোলযোগে ভাংচুর হয়েছে আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্যের বহরের চারটি গাড়ি।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্যের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে তিনজনকে আটক এবং দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
কেরামত আলী ২০টি গাড়ির বহর নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পিয়ারপুর গোডাউনের কাছে একটি ট্রাকের সঙ্গে বহরের একটি গাড়ির সংর্ঘষ হলে সংসদ সদস্যের সঙ্গীরা ট্রাকটিতে হামলা চালায়। তখন স্থানীয়রা জোট বেঁধে সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের হামলা চালিয়ে চারটি গাড়ি ভাংচুর করে।
এতে গাড়িতে থাকা কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
ফরিদপুরের এএসপি আমিনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংসদ সদস্যের গাড়িবহর নিরাপদে গোপালগঞ্জের দিকে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে রাজবাড়ী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কেরামত আলীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কেরামত আলী গোপালগঞ্জে পৌঁছার পর সাংবাদিকদের বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বহরের গাড়ি ভাংচুর হয়েছে।
“আমাদের গাড়িবহর যখন ফরিদপুর শহরের বাইপাস সড়কের পিয়ারপুর এলাকায় প্রবেশ করে, এর আগে একটি ট্রাক ওই এলাকার একটি নছিমনকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের খাদে ফেলে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা ধারণা করেছিল, নছিমনের লোকজন মারা গেছে। এ কারণে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের গাড়ি বহরের পেছনের দুটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।”
“স্থানীয়দের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। এ মধ্যে কোনো রাজনৈতিক কারণ জড়িত নেই।”
ওই দুই গাড়িতে থাকা ১৫ জন আহত হয়েছেন জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা রাজবাড়ী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রুস্তুম আলী জানান, গোয়ালন্দ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা রাব্বী, আজিজুল ইসলাম মন্ডল, নুরু পরামানিক ও আব্দুল আউয়ালকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুপুরে টুঙ্গীপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে পথের দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেন কেরামত আলী।
রাজবাড়ী জেলা, গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে জাতির জনকের সমাধিতে ফুল দেন তিনি।
স্ত্রী রেবেকা সুলতানা ছাড়াও তার সঙ্গে ছিলেন সংসদ সদস্য কামরুন্নাহার চৌধুরী লাভলী, গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মন্ডল, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
এএইচ





