ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে আহত ফায়ারম্যান সোহেল রানা সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

টানা ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল (০৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে সোহেল শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

আজ (০৮ এপ্রিল) সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহা-পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা সোহেল রানার অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় গত (০৫ এপ্রিল) শুক্রবার সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। 

গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে উঁচু মই দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেন। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা হুক মইয়ের সাথে আটকে যায় সোহেল রানার শরীর। পরে সোহেল পড়ে গিয়ে বিপদজনকভাবে আহত হন। তখন তার একটি পা ভেঙে যায়।

বনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ২৬  

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২তলা এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে আটকা পরে অনেক মানুষ। ঘটনার দিননিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫। আহত হয়ে অন্তত ৭৩ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিএমএইচ -এ আজ (৩০ মার্চ) সকালে আবু হেনা মোস্তফা কামাল নামের একজনের মৃত্যু হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ২৬ জনে দাঁড়ায়।

বৃহস্পতিবারের (২৮ মার্চ) অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা রাখছেন। আশপাশের এলাকায় পানির সন্ধান করা, পাইপ টেনে নিয়ে যাওয়ায় দমকর্মীদের সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা গেছে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে।

এমবি