জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ নাকোচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মতো দেশে সেটা সম্ভব নয়’।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের বসন্তকালীন (স্প্রিং) বৈঠক শুরু হয়েছে। সকালে বিশ্ব ব্যাংকের সদরদপ্তরে সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এনেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।

তাদের বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বব্যাংক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি তুলে নিতে বলেছেন। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, ‘আমাদের মতো দেশে সেটা সম্ভব নয়’।

বাংলাদেশে কয়েকটি মূল্যস্তরে বিদ্যুৎ বিল নেওয়ার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি তাকে আরও বলেছি, আমাদের ওখানে বিদ্যুতের দামে কয়েক ধরনের ধাপ আছে। ধনীদের জন্য একটু বেশি দাম। মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরীবদের জন্য বিদ্যুতের বিল কম আদায় করা হয়।

যদিও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ খাতে আর বাংলাদেশ সরকারকে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না। ডিজেল-অকটেন-পেট্টোল-কেরোসিনসহ সব ধরনের জ্বালানিতেই এখন মুনাফা করছে বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি।

বিপিসি চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা বলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় গত ডিসেম্বর থেকে আমাদের আর কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

গত অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছিল। এবার ওই ব্যয় ১৭ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে মনে করছেন বিপিসি চেয়ারম্যান।

এআর