কোম্পানির চাপ, রোগী হাতছাড়া হওয়ার ভয় ও রোগ নির্ণয় করতে না পারার কারণে শিশুদের ওপর নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছেন চিকিৎসকেরা।

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোসাইটি অব পেডিয়াট্রিক্স ইনফেকশাস ডিজিজ (বিএসপিআইডি) এ কথা বলেছে।

বাংলাদেশের শিশুদের বাঁচাতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কথাও বলেছে সংগঠনটি।

‘অ্যাবিউজ অফ অ্যান্টিবায়োটিক’ শিরোনামে বিএসপিআইডির অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের কয়েকটি ব্যবস্থাপত্র দেখানো হয় আজ। দুই একদিনের ডায়রিয়া কিংবা জ্বরে কোনো কোনো চিকিৎসক শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন। অনেক সময় সঠিক মাত্রায় সঠিক ওষুধটি প্রয়োগ করছেন না। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এড়াতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের কথা থাকলেও, ভাইরাসজনিত রোগ নিরাময়েও কেউ কেউ অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন। ধীরে ধীরে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে রোগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান বলেন, শিশুদের জ্বর, ডায়রিয়া ও যক্ষ্মাসহ যেকোনো সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে।

বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ নাজমুন আরা বলেন, আমরা যখন হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক দিই তখন ফার্স্ট লাইন অব ড্রাগ দিই। যখন চেম্বারে রোগী দেখি তখন সেফ্ট্রাঅ্যাকজন দিচ্ছি। হাসপাতালে রোগীকে ওরাল স্যালাইন দিচ্ছি, ক্লিনিকে আইভি স্যালাইন দিচ্ছি। ছাত্ররা দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোনটি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।

তিনি বলেন, শিশু বিশেষজ্ঞদের সংগঠন এখন অনেক শক্তিশালী। একটি নীতিমালা তৈরি করার এখনই সময়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নবজাতক বিভাগের প্রধান ও বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সহিদুল্লা বলেন, যেসব নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকছে তাদের বেলায় বারবার অ্যান্টিবায়োটিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। যে শিশুটির একদিন পর হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা, সে শিশুটি নতুন কোনো সংক্রমণের শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএসএমএমইউ একটি নিজস্ব নির্দেশিকা মেনে চলে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ও বিএসপিআইডির সভাপতি মনজুর হোসেন বলেন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুদের ৭১ ভাগকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, ৫১ শতাংশকে একটির বেশি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, কমপক্ষে ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে রোগ ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে যায়। সবক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন ছিল এমনটি বলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকেরা অনেক সময় কোম্পানির চাপে পড়ে, রোগ সারতে দেরি হলে রোগী অন্য কারও কাছে চলে যেতে পারে এই আশঙ্কায় নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন।

কেএইচ