আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো এবারের ইয়নিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে। মোট ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতি ধাপে মাঠে থাকবে দেড় লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া এবারই প্রথম নির্বাচনী মাঠে চার দিনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তাব রেখেছে ইসি।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি ও কোস্ট গার্ড, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, সারাদেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে ইসি। এক্ষেত্রে নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৭ জন করে পুলিশ ও আনসারের ১৯ জন করে ফোর্স মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ফোর্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ১৯ জন করে।
তবে এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কার্যপত্রে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ আছে, পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে ৬৩৯টি মোবাইল ফোর্স, প্রতি তিন ইউপির জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতি উপজেলায় দুটি করে র্যাবের মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং টিম এবং প্রতি উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি মোবাইল ও এক প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। আবার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতি উপজেলার জন্য কোস্ট গার্ডের দুই প্লাটুন মোবাইল ফোর্স ও এক প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে। যারা ভোটের দুই দিন আগে থেকে পরে একদিন করে মোট চারদিনের জন্য নিয়োজিত থাকবে।
নির্বাচনে জেলা প্রশাসক প্রয়োজন মনে করলে ফোর্স পাওয়া সাপেক্ষে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করতে পারবেন। অন্যদিকে প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপনের চিন্তা-ভাবনাও করা হচ্ছে।
কার্যপত্রে আরো উল্লেখ রয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর দিন থেকে নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি উপজেলায় একজন করে ভোটগ্রহণের আগে-পরে চার দিনের জন্য তিনজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে। এ ছাড়া একই সময়ে উপজেলা প্রতি একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োজিত থাকবে।
আবার জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে মনিটরিং সেল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির।
এ ছাড়া বহিরাগতদের নিষিদ্ধকরণ, বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনিটরিং সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন সেল টিম গঠন ছাড়াও নির্বাচনে সন্ত্রাস, মাস্তানদের দৌরাত্ম্য বন্ধকরণের করণীয় নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে কার্যপত্রে।
এবার ছয় দফায় সারাদেশের ইউপিগুলোর ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। আগামী ২২ মার্চ প্রথম দফায় ৭৩৪ ইউপিতে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফায় ৩১ মার্চ ৬৫১ ইউপিতে, তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল হবে ৭১১টিতে ও চতুর্থ দফায় ৭ মে ৭২৮টি ইউপিতে ভোট হবে। এ ছাড়াও পঞ্চম দফায় ২৮ মে ৭১৪টি এবং ষষ্ঠ দফায় ৪ জুন ৬৬০টি ইউপির ভোটগ্রহণ হবে।
এমই





