‘জিন ছাড়াতে’ সন্তানকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন চাঁদপুরের এক দম্পতি। জেলার শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের তারাপুর কামারবাড়ির সিরাজ মেম্বারের বাড়িতে মঙ্গলবার ভোরে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে শিশুটির বাবা এমরান হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে স্ত্রী আমেনা বেগমের পরামর্শে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা।

শাহরাস্তি থানা পুলিশ তারাপুর কামারবাড়ির নিহত সুমাইয়ার বাবা কাঠমিস্ত্রি এমরান হোসেন (৪০) ও মা আমেনা বেগমকে (৩৫) বুধবার আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান।

তারাপুর কামারবাড়ি সরেজমিন জানা গেছে, ৩ আগস্ট সোমবার সকালে নিজ কন্যা সুমাইয়াকে জিনে ধরেছে বলে মাটির উপড়ে চেপে ধরে লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করেন মা আমেনা বেগম। ওই সময় বাড়ির লোকজন ছুটে এসে বাচ্চাটিকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে তিনি তাদের ধাওয়া করেন।

পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমেনা ও তার স্বামী এমরানের হাত থেকে শিশু সুমাইয়াকে উদ্ধার করেন। তারা শিশুটিকে নানীর কাছে রেখে আসেন।

মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে এমরান ও আমেনা জোর করে নানীর কাছ থেকে সুমাইয়াকে নিয়ে আসেন। তার পর জিন তাড়ানোর নামে নির্যাতন করায় ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ভোরে পরিবারের অন্য সদস্য ও বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে এ দম্পতিকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই বাড়ির কাঠমিস্ত্রি এমরান হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৫) ছয়-সাত দিন আগে নিজেকে জিনে ধরেছে বলে বাড়ি ও আশপাশের লোকদের জানান। বিষয়টি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে বহু নারী-পুরুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমান। জিন ছাড়ানোর নামে আরও কয়েকটি শিশুকে মারধর করা হয়।’

আটক এমরান হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘তারা গরিব ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। ওই ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কোনো উপায় না পেয়ে তার স্ত্রী আমেনা বেগমের পরামর্শে জিনের আসরের নামে এ প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘নিহত শিশু সুমাইয়ার লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মা-বাবাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছি।’

সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবু হানিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এএইচ