হাসপাতালে জরুরি ওষুধসহ চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ চিকিৎসাসেবা। ১ বছর ধরে এ সংকট চলছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপকরণ না পাওয়ায় রোগী এবং তাদের স্বজনদের বাইরে থেকে বাড়তি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গরিব ও দুস্থ রোগীরা।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকাসহ জনবলেরও অভাব রয়েছে। ফলে বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে কাগজে-কলমে নড়াইলের লোহাগড়া হাসপাতালটি ৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু করে।
এরপরই রোগীদের কাছ থেকে ৫০ শয্যার সেবামূল্য আদায় করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাস্তবে আজও হাসপাতালে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালে প্রাণ রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ ওষুধসহ রক্তের ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল সরঞ্জামাদির সংকট চলছে।
এতে গরিব ও দুস্থ রোগীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। সরকারি হাসপাতালে এসে রোগীর অভিভাবকদের বাইরে থেকে রক্তের ব্যাগ কিনতে হচ্ছে। সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সিংগা গ্রামের ফিরোজা বেগম হাসপাতালের ১১ নম্বর বিছানায় ভর্তি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রক্ত সল্পতায় ভুগছেন। ডাক্তার বলেছেন তার শরীরে এখন রক্ত উৎপাদন হয় না।
তাই বাড়ির সদস্যদের সহযোগিতায় চিকিৎসকের পরামর্শমতে প্রায়ই তার শরীরে রক্ত দিতে হয়। রক্তের ব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরকারিভাবে পান কিনা জানতে চাইলে তার সঙ্গে থাকা পুত্রবধূ তানিয়া সুলতানা বলেন, প্রায় বছর খানেক ধরে শাশুড়ির শরীরে রক্ত দিতে হয়।
এক ব্যাগ রক্ত দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কোনদিনও রক্তের ব্যাগ বিনামূল্যে হাসপাতাল থেকে পাইনি। একই উপজেলার ঝিকড়া গ্রামের তুরাফ শেখ বলেন, গত ১৫ তারিখে আমার মা ফরিদা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ডাক্তার বলেছেন মায়ের শরীরে রক্ত উৎপাদন হয় না। দুই ব্যাগ রক্ত এরই মধ্যে দেয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে এখান থেকে বিনামূল্যে রক্তের ব্যাগ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। শামুখখোলা গ্রামের সৈয়দ আরিফুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে রক্ত স্বল্পতায় ভুগছেন। তিনিও এ হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ১০ নম্বর বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আরিফুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, আমার শরীরে প্রায়ই রক্ত দিতে হয়। প্রতিবার ২৫০ টাকা করে গুনলেও হাসপাতাল থেকে একবারও বিনামূল্যে রক্তের ব্যাগ আমাকে সরবরাহ করেনি। এমনকি অনেক ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) সুষমা মলি বলেন, এ বছর আজ পর্যন্ত ২৭০ ব্যাগ রক্ত আমাদের মাধ্যমে রোগীদের শরীরে দেয়া হয়েছে। দিন দিন এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্তের ব্যাগ সরবরাহ নেই। বছরের শুরুতে নড়াইল সিভিল সার্জন অফিস থেকে মাত্র ৫০ ব্যাগ পেয়েছিলাম যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বি এম কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, লোহাগড়া হাসপাতালে গরিব ও দুস্থ রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং রক্তের ব্যাগ থাকা প্রয়োজন। যদি রক্তের ব্যাগ সরবরাহ কম থাকে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরবরাহ বৃদ্ধি করা উচিত। তা না হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় হতে পারে।
আমরা উপজেলাবাসী চাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন নাহার বলেন, রক্তের ব্যাগ বর্তমানে সরবরাহ নেই তাই হাসপাতাল থেকে রোগীদের এ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর ওষুধ শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য বরাদ্দ। বহির্বিভাগের রোগীদের তা দেয়া হয় না।
উজ্জল রায়/এআই





