নড়াইলে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করতে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগি অভিযোগ করে জানান, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করতে জেলা প্রশাসকের এলআর ফান্ডে ঘুষ দেয়া বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।

সরকার কর্তৃক এবার বন্দুক/শর্টগান/টুটুবর রাইফেল অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন ফিস্ এক হাজার টাকার স্থলে পাঁচ হাজার টাকা এবং ভ্যাট বাবদ সাতশত পঞ্চাশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে লাইসেন্স ধারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

একদিকে সরকার কর্তৃক অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন ফি’র টাকা প্রায় পাঁচগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে জেলা প্রশাসকের এলআর ফান্ডের নামে সুকৌশলে এক হাজার টাকা উৎকোচ নেয়া হচ্ছে। আবার সুযোগ বুঝে কারো কারো নিকট হতে আরোও বেশি টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।

নবায়নের জন্য যাওয়া মাত্রই জেলা প্রশাসকের অস্ত্রের লাইসেন্স সেকশনের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারি মোশারফ হোসেন নবায়ন বাবদ এক হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করছেন। লাইসেন্স নবায়নকারীরা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন নগদ এক হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় জেলা প্রশাসকের এলআর ফান্ডের পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, নড়াইল শাখার ৪৪৩৯৭ নম্বর সঞ্চয়ী হিসাবে এক হাজার টাকা জমা দিতে হবে।

অনেক লাইসেন্সধারী ঝামেলা এড়াতে দাবিকৃত এক হাজার টাকা নগদ দিয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শাহীদুল ইসলাম শাহীর আগ্নেয়াস্ত্র (শর্টগান) যা নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ক্রমিক নং-৬৩/কালিয়া/১৬ নবায়নের কাগজপত্র জমা দিলে অফিস সহকারি মোশারফ হোসেন এক হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোশারফ জানান, ডিসি স্যারের এলআর ফান্ডের হিসাব নম্বরে ব্যাংকে টাকা জমা না দিলে অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না।

অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের সাথে ডিসি’র এলআর ফান্ডে টাকা জমা দেয়ার সাথে সম্পর্ক কি জানতে চাইলে মোশারেফ কোন সদুত্তর দিতে না পেরে জানান, ডিসি স্যারের অনুমতি নিয়েই এলআর ফান্ডের টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। অস্ত্রের লাইসেন্সধারী সাংবাদিক শাহী উপায়ন্তর না পেয়ে মোশারেফকে এক হাজার টাকার ব্যাংক জমা রশিদ লিখে দিতে অনুরোধ করলে অনিচ্ছা সত্বেও তিনি (মোশারেফ) স্বহস্তে ব্যাংক রশিদ লিখে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার লেখা ব্যাংক রশিদটি সাংবাদিকের হেফাজতে রেখে মোশারেফকে নগদ এক হাজার টাকা উৎকোচ দেন।

নগদ টাকা পেয়ে মোশারফ অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেন। পরবর্তীতে এলআর ফান্ডে জমা দেয়ার জন্য নিজ হাতে লিখে দেয়া ব্যাংক স্লিপের কাগজ ফেরত চান মোশারফ। কিন্তু ঘুষ গ্রহনের প্রমান স্বরূপ ওই ব্যাংক রশিদ সাংবাদিক ফেরত দেননি। এরপর হতে ওই ব্যাংক রশিদ ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন লোক দিয়ে তদবীর অব্যাহত রেখেছেন মোশারফ। এ প্রসঙ্গে নড়াইল জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, ‘এলআর ফান্ডের কথা বলে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেব।’

রিন্টু/এমই