এবার গ্রীষ্মের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হবে দেশ। শুধু তাই না উল্টোভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির দেখাও মিলবে এ মাসে।

এপ্রিল মাসে দেশে দু’টি তীব্র তাপপ্রবাহ ও দু-একটি স্থানে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথা কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে চলতি মাসে ১ থেকে ২টি নিম্নচাপ ও বেশ কয়েকটি তীব্র, মাঝারি ও হালকা কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস দিতে আবহাওয়া অধিদফতরের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এ পূর্বাভাস দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ চৈত্র) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরে কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটি চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে মো. শাহ আলম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এপ্রিল মাসের দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্য জায়গায় ২ থেকে ৩টি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে এটা আগামী ৬ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত থাকবে। এরপর তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হবে। তীব্র তাপপ্রবাহ হবে মাসের শেষের দিকে।’

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু, ৩৮ এর চেয়ে বেশি থেকে ৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি ও ৪০ ডিগ্রির সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত মার্চ মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫১ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক আরও জানান, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এপ্রিল মাসে দেশে নদ-নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে বলেও জানান তিনি।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দু-একটি স্থানে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে শাহ আলম বলেন, ‘দেশের উত্তর, উত্তর পশ্চিম, উত্তর পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে ৩ থেকে ৪ দিন বজ্রসহ মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখী ও দেশের অন্য জায়গায় ৪ থেকে ৫ দিন হালকা বা মাঝারি কালবৈশাখী-বজ্রঝড় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কমিটি।’

আবহাওয়া অধিদফতর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ফরিদপুরে ৬৪ মিলিমিটার। এ সময় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৫৮ মিলিমিটার। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ২২ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ৬১ মিলিমিটার, মাদারীপুরে ৬২ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ১৪ মিলিমিটার, শ্রীমঙ্গলে ২২ মিলিমিটার সিলেটে ১১ মিলিমিটার, বগুড়ায় ১৪ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুমিল্লায় ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ দশমিক ৬ ও সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এপ্রিলের ১৪ তারিখ বৈশাখ তথা গ্রীষ্ম পা রাখবে প্রকৃতিতে। বাংলা বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস গ্রীষ্মকাল। ফাল্গুন ও চৈত্রের বাহনে প্রকৃতি থেকে যাই যাই করছে বসন্ত।

এএইচ