লঞ্চে চাদর বিছানোকে কেন্দ্র করে এমভি সুন্দরবন-৯ লঞ্চের স্টাফদের এলোপাথারি মারধরে ১০ যাত্রী আহত হয়েছে।
বুধবার পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে অবস্থানরত ঢাকাগামী ওই লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার নুন্দীপাড়া গ্রামের সাদ্দাম, আকরাম, সুজন, হুমায়ুন, আক্কাস, মোঃ কাঞ্চন মিয়ার নাম জানা গেছে। এরা সবাই ওই লঞ্চের যাত্রী। এদের মধ্যে সাদ্দামকে শহরের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবার ওই লঞ্চেই পাঠানো হয়েছে।
দুপুরে এ ঘটনার পর পুলিশের উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চটিকে পটুয়াখালী ঘাট ত্যাগে বাধ্য করান।
আহত একাধিক যাত্রী জানান, সকাল থেকেই লঞ্চের নিচতলা, দোতলা, তিনতলা এমনকি কেবিনের সামনে রশি বেধে কিংবা চাদর বিছিয়ে লঞ্চের একদল স্টাফ জায়গা দখল করে রাখে।
দুপুর ১টার দিকে কয়েকজন যাত্রী একত্রিত হয়ে স্টাফদের বিছিয়ে রাখা চাদর সরিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যাত্রীদের উপর চড়াও হয় স্টাফরা। তাদের কিলঘুষি ও লাথিতে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়।
পরে লঞ্চে থাকা আনসার সদস্যরাও এসে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায় বলে জানান আহত কাঞ্জন মিয়াসহ একাধিক যাত্রী।
অপরদিকে লঞ্চের ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে লঞ্চের দুই যাত্রীর সঙ্গে প্রথমে মারামারি বাধে। একপর্যায়ে তা স্টাফদের মধ্যে ছড়িয়ে পরে। তখন লঞ্চের স্টাফ ও যাত্রীদের মধ্যে হালকা মারামারি হয়েছে।
প্রতিদিন লঞ্চের স্টাফরা চাদর বিছিয়ে জায়গা দখল করে কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে লঞ্চঘাটের দায়িত্বে নিয়োজিত টিএসআই (টাউন ইন্সপেক্টর) মো. দেলোয়ার হোসেন কোন উত্তর না দিয়ে মুচকি হেসে চলে যান।
প্রসঙ্গত, প্রতিটি লঞ্চের কতিপয় স্টাফ ও ঘাটশ্রমিক মিলে যাত্রীদের জিম্মি করে লঞ্চে চাদর বিছিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও এ ব্যপারে প্রশাসন নির্বিকার।
অভিযোগ রয়েছে টিএসআই ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে শ্রমিকরা এই অবৈধ ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
জেএ





