নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিনি বিভাগে গিয়ে তাকে হত্যা করা হবে বলে ফেসবুকে হুমকি দেওয়া হয়।
শুক্রবার রাতে এই হুমকি দেওয়া হয়। শনিবার রাত থেকেই হাসপাতালে নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হয়।
ফেসবুকের পোস্টে বলা হয়, ‘ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বরে ওয়ার্ডে গিয়ে শ্যামল কান্তিকে হত্যা করা হবে। একই সঙ্গে তার মুত্যু কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তার নানা কৌশলও উল্লেখ করা হয়। তার মাথার পেছন, ঘাড় এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে খুন করা হবে বলে ফেসবুকের বিবরণে তুলে ধরা হয়। ‘সালাউদ্দিনের ঘোড়া’ নামের ফেসবুক পেইজে তন্ময় কর্মকার নামে এক ব্যক্তি তার নাম উল্লেখ করে আরো বলেন, প্রয়োজনে তাকে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে হত্যা করা হবে।
এদিকে শনিবার দুপুর থেকে শ্যামল কান্তির নিরাপত্তা আরো জরদার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। ডাক্তার-নার্স ও পরিবারের সদস্যদের ছাড়া অপরিচিত কাউকেই ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার ওয়ার্ডের বাইরে শাহবাগ থানার তিন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছেন।
শনিবার রাতে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, হাসপাতালে শিক্ষক শ্যামল কান্তির জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডাক্তার-নার্সদের শনাক্ত করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একদল লোক মারধর করে। পরে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানো হয়।
দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই ১৭ মে ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ১৮ মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এর পরদিন ১৯ মে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বহাল রেখে স্কুল পরিচালনা পর্যদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। মাউশির প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এমবি





