রাজধানীর হাজারীবাগে আজ থেকে কাঁচা চামড়া ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় সরকার। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। আর সরকারের এ নির্দেষ অমান্য করে চামড়া কেনাবেচা ও সরবরাহ করতে গেলে তাদের আটক করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা সরকারের এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তারা ফের ট্যানারি স্থানান্তরের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি শর্ত শিথিল করে ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নগরীতে দূষণ রোধে হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তরে শিল্প মন্ত্রণালয় কয়েক দফা আলটিমেটাম দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত ২০১৩ সালে প্লটের নকশা অনুমোদনের পর ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য প্রকল্প পরিচালক ২৮ বার তাগিদ দিয়েছেন। নৌ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ শিল্প মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা গতকাল শেষ হলেও যেতে পারেনি কোনো ট্যানারি।

আর শিল্প মন্ত্রণালয়ের আলটিমেটাম অনুযায়ী, গত রোববার স্বরাষ্ট্র সচিব, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ট্যানারি মালিকদের দুটি সংগঠন বিএফএলএলএফইএ ও বিটিএকে এক চিঠি দিয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে কাঁচাচামড়া হাজারীবাগে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত তা তদারকি করা হবে। শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যদিও ট্যানারি মালিকরা স্থানান্তরের জন্য সময় চেয়ে আসছেন। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। ট্যানারি দ্রুত স্থানান্তরের জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) নেতারা বলেন, ট্যানারি মালিকরা দ্রুত স্থানান্তরের জন্য কাজ করছেন। অর্থ সংকটের কারণে পারছেন না। এ জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারের কঠোর অবস্থানে না থেকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য জুন পর্যন্ত সময় দেওয়ার দরকার। আগামী তিন মাস সময় দিলে সব ট্যানারি যেতে পারবে।

তারা আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকার কঠোর হলে তারা সংকটে পড়বেন। এতে ট্যানারি মালিকরা আন্দোলনে যেতে পারেন। চামড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে জটিলতার তৈরি হবে। অন্যদিকে হাজারীবাগে চামড়া না এলে তা পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে চামড়া খাতের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। সে জন্য তারা সময় বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে যেতে পারেন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য মালিকরা কাজ করছেন। আগামী জুনের মধ্যে বেশিরভাগ ট্যানারি স্থানান্তর হবে। জুন পর্যন্ত সময় দিলে আর কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। তিনি আরো বলেছেন, সরকারের কঠোর অবস্থানে ব্যবসায়ীরা হতাশ।

হাজারীবাগে কাঁচাচামড়া ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন কাঁচাচামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে ট্যানারি মালিকরাও চামড়া পাবেন না। তা পাচার হবে।এজন্যই ব্যবসায়ীরা দ্রুত যেতে চান। এ জন্য তারা কাজ করছেন। এখন তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান তারা।

সাভার শিল্পনগরীতে এখন পর্যন্ত ১৫৫টির মধ্যে মাত্র ৫টি ট্যানারি স্থানান্তরের প্রস্তুতি রয়েছে। এক মাসের মধ্যে ৩০টির মতো স্থানান্তর করতে পারবে। অন্যান্য ট্যানারির মধ্যে ৮৪ ট্যানারির কারখানা ভবন নির্মাণের জন্য কলাম ঢালাই ও মাটির নিচের অংশের কাজ হচ্ছে। ২৯টি ট্যানারি ভবন উপরের অংশের নির্মাণকাজ করছে।আইনি জটিলতার কারণে ১২টি ট্যানারির কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারের অংশের কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ইতিমধ্যে সিইটিপির দুটি মডিউল পরীক্ষামূলক চালু করা হয়েছে। অন্যান্য কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে।

এমই