ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের শরীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার কারণে তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) থেকে উনার শ্বাসকষ্টটা বেড়েছে। রক্তচাপ ও ডায়বেটিস স্বাভাবিক থাকলেও বার্ধক্যজনিত কারণে কোনো কিছুরই উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না। আমরা বোর্ড গঠন করে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি, দেখা যাক। তবে শারীরিক অবস্থা স্ট্যাবল রয়েছে।’

আবদুল মতিনের সহধর্মিণী গুলবদন্নেসা মনিকা বলেন, ‘তার শ্বাসকষ্ট রেড়েছে, ফুসফুসে পানি জমেছে বলে চিকিৎসকরা শনাক্ত করেছেন। সব ধরনের চেষ্টা করেও তার শ্বাসকষ্ট কমানো যাচ্ছে না। বুকে কফ জমে গেছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা করছেন, দেখা যাক কী হয়।’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ মাস চিকিৎসারত রয়েছেন ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকলেও, নল দিয়ে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। আর ক্যাথেটার লাগানো আছে। এই দুটা সমস্যার কারণে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। স্ট্রোকজনিত কারণে আবদুল মতিন শরীরের ডান পাশের কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। কৃত্রিমভাবে খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই ভাবে মল-মূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্ট্রোক করার পর থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে চেনার মতো জ্ঞান ফেরেনি আবদুল মতিনের। শরীরে ডান পাশ প্যারালাইসড হয়ে গেছে। বার্ধক্যের ফলে এটা ভালো হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।

গত ২৫ আগস্ট মোহাম্মদপুর নিজ বাসায় স্ট্রোক করেন তিনি। স্ট্রোক করার পর আবদুল মতিকে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়। সেখানেই ২৭ আগস্ট সফলভাবে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

জেএ