কক্সবাজার শহরের অদূরে বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া চ্যানেলে বৃহস্পতিবার ভোরে ৫৮ মাঝিমাল্লাসহ অপহৃত দু’টি ফিশিং ট্রলারের মধ্যে শুক্রবার ৫৬ মাঝিমাল্লাসহ একটি ফিশিং ট্রলার ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা। 

শুক্রবার বিকাল ৩টায় এফবি জয়নাল ফিশিং ট্রলারসহ এসব মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনও ২জন মাঝিমাল্লাসহ এফবি সাহেদা নিখোঁজ রয়েছে। 

কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতি সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে এফবি জয়নাল ও এফবি সাহেদা নামের দু’টি ফিশিং ট্রলার সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যু আক্রান্ত হয়। এ সময় জলদস্যুরা ৬০ মাঝিমাল্লাসহ ট্রলার দু’টি অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় এফবি জয়নালের মাঝি মোহাম্মদ বাদশা ও অপর এক জেলে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে উপকূলে চলে আসতে সক্ষম হয়। পরে তারা ফোনে বিষয়টি ট্রলার মালিককে জানায়। 

এ ঘটনার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে দুটি ট্রলারের ৫৬ মাঝিমাল্লাসহ এফবি জয়নাল ছেড়ে দেয়া হলেও ২ মাঝিমাল্লাসহ এফবি সাহেদা এখনও জলদস্যুদের হেফাজতে রয়েছে। 

ছেড়ে দেয়া ট্রলারের মাছ, জাল ও রসদপত্র লুট করার পর ইঞ্জিন বিকল করে দেয়া হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে কুতুবদিয়া থেকে গভীর বঙ্গোপসাগরে ট্রলার পাঠিয়ে ৫৬ মাঝিমাল্লাকে বিকল ট্রলারটিসহ উদ্ধার করে আনা হয়েছে। উদ্ধারপ্রাপ্ত মাঝিমাল্লাদের মধ্যে নিখোঁজ ট্রলার এফবি সাহেদার ২৮ মাঝিমাল্লাও রয়েছেন।   

উদ্ধারপ্রাপ্ত এফবি জয়নাল ট্রলারের মালিক ও কুতুবদিয়া ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জয়নাল জানান,  ৩০ মাঝি-মাল্লাসহ তার মালিকানাধীন ট্রলারটি প্রায় ১ সপ্তাহ আগে মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে যায়। মাছ ধরে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ট্রলারটি মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া চ্যানেলে ডাকাতের কবলে পড়ে। 

বঙ্গোপসাগরের একই এলাকায় মহেশখালী পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মকছুদ মিয়ার মালিকানাধীন এফবি সাহেদাও ৩০ মাঝিমাল্লাসহ একই সময়ে জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হয়।  

অপর ট্রলার এফবি সাহেদার মালিক মহেশখালী পৌরসভার চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মকছুদ মিয়া জানান, ৩০ মাঝিমাল্লাসহ তার ট্রলারটি জলদস্যুরা অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়ার পর ২৮ জেলেকে ছেড়ে দিলেও ২ মাঝিমাল্লাসহ তার ট্রলারটি এখনও জলদস্যুদের কবলে রয়েছে। ট্রলারসহ মাঝিমাল্লাদের উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গতমাসের ২৬ ও ২৭ তারিখ কক্সবাজারের কূলবর্তী বঙ্গোপসাগরে অর্ধশতাধিক ফিশিং ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত মাসের ৬ তারিখও একইভাবে ট্রলার ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনায় অর্ধশতাধিক মাঝিমাল্লা আহত হয়। 

কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, সাম্প্রতিককালে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের ‘রামরাজত্ব’ কায়েম হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সাগরে ১/২টি করে ট্রলার ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। 

ট্রলার মালিকরা জানান, কক্সবাজারের কূলবর্তী বঙ্গোপসাগর এখন সোনাদিয়া, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়ার জলদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি। এই কারণে সাগরে যেতে মাঝিমাল্লারা এখন ভয় পাচ্ছেন। 

তিনি অবিলম্বে বঙ্গোপসাগরকে জলদস্যু মুক্ত করার দাবি জানান। 

জেআই