পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, জঙ্গিরা ছেলেদের টার্গেট করে। মসজিদে জিহাদের কথা বলে উদ্বুদ্ধ করে। হিজরতের নামে ঘর থেকে বের করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেয়। তারপর বেহেশতের কথা বলে ছেলেদের জঙ্গিবাদে নামায়। এ ব্যাপারে বাবা-মায়েদের বেশি সচেতন হতে হবে। সন্তানদের ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। বাংলাদেশকে জঙ্গিদের উর্বর মাটি করতে দেওয়া যাবে না।

রোববার বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার সৈকতের তারকা হোটেল ‘দ্য কক্স টুডে’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।

শহীদুল হক বলেন, ‘ইসলামের নামে মানুষ হত্যা আর সন্ত্রাস-নাশকতা চালিয়ে জঙ্গিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। আমরা তা কোনো দিন সফল হতে দেব না। আমাদের ভবিষ্যৎ​ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদকে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

রাজধানীর গুলশানে হামলাকারীদের সম্পর্কে আইজিপি বলেন, তাদের ইসলাম সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তাদের লাশ পড়ে আছে, কেউ নিতেও আসছে না। কারণ, জঙ্গিদের মানুষ ঘৃণা করে।

জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘যারা জঙ্গি হয়েছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ—সঠিক পথে ফিরে আসুন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে পরিবারের অশান্তি দূর করুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। সরকারও তাদের সাধারণ ক্ষমা করবে।’

আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। জঙ্গিবিরোধী চেতনা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে কাজ চলছে। যারা ইসলামের নামে দেশকে ধ্বংস করতে চাইছে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, কক্সবাজার ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার, টুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মো. মুসলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ফজলুল করিম চৌধুরী প্রমুখ।

ওএফ