বান্দরবানের দোছড়ি ইউনিয়নের ক্যাম্পের নিখোঁজ বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে নিয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমারের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতার জের ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহি: প্রচার অনুবিভাগের মহাপরিচালক সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘটনার পর থেকেই কূটনৈতিক চ্যানেলে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার পতাকা বৈঠক করে মিজানকে ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু বৈঠকটি না হয়ে গুলি বিনিয়ম হওয়া খুবই অনভিপ্রেত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের সঙ্কট ছিল। লোক মারফত যোগাযোগের ফলে দু’দেশের ভুলবোঝাবুঝিতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
বিজিবি জানায়, বুধবার সকালে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ির পানছড়ি বিওপির ২০ সদস্যের বিজিবির একটি দল ৫২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে যায়। সীমান্ত পিলারের কাছে পৌঁছামাত্র বিজিবি সদস্যদের ওপর নির্বিচারে গুলি ছুড়তে শুরু করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ। গুলি থামার পর থেকে নিখোঁজ হন বিজিবির সদস্য নায়েক মিজানুর রহমান।
মিজানকে আটক ও সীমান্তে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগামী দিনে এ ধরনের তৎপরতা রোধে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থান এ সময় সচিবকে আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি মিয়ানমারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। মিয়ানমার থেকে জবাব পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে তা জানাবেন।
নিখোঁজ মিজানুর বেঁচে আছেন কিনা সে ব্যাপারে বিজিবির পক্ষ থেকে কিছু জানা না গেলেও নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ গুলিবিনিময় চলে।
[b]ঢাকা, ৩০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ
[/b]





