জামদানি শিল্পের প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত ‘জামদানি প্রদর্শনী ২০১৫’ আজ শেষ দিন।
১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীরে আজ শেষ দিন। প্রদর্শনীতে জামদানি কারিগররা নিজেদের হাতে তৈরি জামদানি নিয়ে সাজিয়েছেন স্টলগুলো।
সুতি ও হাফ সিল্কের জামদানি, জামদানি কামিজ, এবং ওরনার সেট আর থ্রি-পিসও পাওয়া যাচ্ছে মেলার বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।
ক্রেতারা শেষ বারের মত তাদের পছন্দের পণ্যটি বেছে নিচ্ছেন। অনেকে আবার আসছেন মেলা দেখতে, এবারের মেলাতে নতুন পণ্যগুলো হাত বুলিয়ে দেখছেন।
দোকানের মালিকরাই মূলত কারিগর। কারিগরদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা প্রায় দেড়শ, দুইশ বছর যাবৎ পারিবারিকভাবে জামদানি শাড়ি তৈরি ও বিক্রির সাথে জড়িত।
মো: জসিম, পরিবারের সদস্য ও কর্মীদের নিয়ে তিনি শাড়ি তৈরি করেন। তার তৈরি শাড়ির মূল্য সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চো দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দামের শাড়ির চাহিদা বেশি।
জামদানি শাড়ি বিক্রেতা ও কারিগর নাজিম উদ্দিন জানান, এখানে শাড়ির দাম পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
আর জামদানি ওড়নার দাম ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা। এই শাড়িগুলো রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণে রূপসা গ্রামে তৈরি করা হয়।
তিনি আড়াই হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার শাড়ি বুনে থাকেন। মিরপুর, ধানমণ্ডি, বসুন্ধরা, কলাবাগান, বেইলি রোড, গাউছিয়া, নিউমার্কেট সহ আরো বিভিন্ন মার্কেটে শাড়ি সরবারহ করে থাকেন।
সুতি ও মিক্সড জামদানির মধ্যে সুতির চাহিদা বেশি। মধ্যবয়স্করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক রংয়ের শাড়িগুলো বেশি পছন্দ করে থাকেন আর কম বয়স্করা বিভিন্ন রংয়ের কাজ করা জামদানি বেশি পছন্দ করে বলে জানান রেজাউল।
তার স্টলে কামিজ ওড়নার সেট এবং থ্রি-পিস পাওয়া যাবে আড়াই হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকায়।
এছাড়াও নিজের মন মতো নকশা ও রং নির্বাচন করে অর্ডার দেওয়া যাবে জামদানি শাড়ি। এক্ষেত্রে শাড়ির মূল্য নির্ভর করবে কাজের ঘনত্বের উপর। অর্ডার দেওয়া শাড়ি বানাতে সময় লাগবে এক সপ্তাহ থেকে দুই মাস।
বিক্রেতাই মনে করছেন এবার সঠিক প্রচারের অভাবে মেলা খুব একটা জমেনি। গতবার আরও বেশি প্রচার করা হয়েছিল।
তবে মনিটরিং কমিটির একজন সদস্য কাজী মো. মোবারক হোসেন বলেন, “এবার প্রদর্শনীতে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে।
বেচাকেনাও বেশ ভালো। কেবলমাত্র গত শুক্রবারেই ১৫ লক্ষ টাকার কেনাবেচা হয়েছে মেলায়।”
তিনি আরও বলেন, “বিসিক ও জাদুঘর এই প্রদর্শনী আয়োজন করেছে এবং সরাসরি জামদানি কারিগররা এইখানে এসেছেন তাই তুলনা মুলক কমদামে পছন্দসই শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে মেলাগুলোতে।”
প্রদর্শনীতে আসা একজন ক্রেতা ফারহানা বলেন, “এইখানে নানান রকম কালেকশন রয়েছে তবে দাম মার্কেটের মতোই। কিছুটা ভিন্ন ডিজাইনের বেশ কিছু শাড়ি রয়েছে। তবে ওগুলোর দাম বেশি।”
এমএ/এসএইচ





