বাবা-মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে ঈদ করতে গ্রামে গিয়েছিল মো. শরিফ (১৭) ও মাহফুজা আক্তার (১৪)। মামাতো-খালাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দে মেতে ছিল তারা। নানা বাড়িতে সব স্বজনেরা আসবেন। এক সঙ্গে খাবার খাবেন। ঢাকা থেকে গ্রামে ঈদ করতে এসে প্রাণ হারালো ভাই-বোন।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে নেমে তারা নিখোঁজ হন। পরে রাত ৮টার দিকে ডুবুরিরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহতরা হলেন শরীফ বেপারি (১৮) ও মাহফুজা আয়শা (১৩)। তারা নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের আবদুল হক বেপারির সন্তান। নিহত শরীফ ঢাকার বিএম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও মাহফুজা মদিনানগর দাখিল মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

আবদুল হক বেপারি বলেন, গ্রামে এসে আদরের ছেলেমেয়েকে হারালাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল।

শরিফ ও মাহফুজার বাবা আবদুল হক জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শরীফ ও মাহফুজা পদ্মা নদীতে গোসল করতে যায়। নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় শরীফ। ভাইকে বাঁচাতে নদীতে নেমে বোন মাহফুজাও পানিতে তলিয়ে যায়।

আবদুল হক ব্যাপারীর বাড়ি মুন্সিকান্দি গ্রামেই। তিনি ছোটবেলা থেকে ঢাকার মিরপুরে থাকেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ভাড়া করা বাসায় থাকেন। সিএনজি চালক আবদুল হক রোববার পরিবার নিয়ে শ্বশুর বাড়ি নওপাড়া মুন্সিকান্দিতে আসেন।

আবদুল হক বলেন,আমি ফেরার সময় তাদের নদী থেকে উঠতে বলেছিলাম। তারা আমার কথা না শুনে নদীতে আনন্দ করার জন্য থেকে যায়। আমি বিরক্ত হয়ে বাড়ির দিকে রওনা হই। আমিতো ভাবতে পারিনি ওরাই আমার সঙ্গে অভিমান করে সারা জীবনের জন্য চলে যাবে।

আমিই ওদের নদীতে নিয়ে এসেছিলাম। আমিই ওদের নদীতে বিসর্জন দিয়ে গেলাম। এখন ওদের মাকে কি জবাব দেব? আল্লাহ কেন আমাদের সন্তানদের নিয়ে গেলেন?

নড়িয়া থানার ওসি মঞ্জুরুল হক জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে তিন ডুবুরি এনে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার করে। জানাজা শেষে বুধবার নওপাড়া গ্রামে তাদের লাশ দাফন করা হবে।

এএস