পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব দ্রুত সরগম হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা পর্যটন নগরীর পৌর অঞ্চল। সাগর পারে এই প্রথম পৌর নির্বাচন হওয়ায় খুশির আমেজ বইছে ভোটারদের মাঝে।

৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী।

৭ জন সংরক্ষিত ও ৩৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকে ইতিমধ্যে দলীয় সমর্থন বা নিজ দ্যোগে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শুরু করেছে প্রচার প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্ধের আগেই চালিয়ে যাচ্ছে তারা গণসংযোগ ও প্রচার।

আশা প্রত্যাশার কথা জানান দিচ্ছে উঠান বৈঠকে। কেউ কেউ আবার দান অনুদান, চা দোকান এবং আড্ডায় বে-হিসেবী খরচও করছেন। নতুন এ পৌর সভার ৫ বছরের বেশী সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ডিসেম্বরে ৩০ তারিখ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।

মেয়র যেই হউক কুয়াকাটাকে আর্ন্তজাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রুপদিতে তাকে পর্যটক বান্ধব হতে হবে এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন এখানকার দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীরা।

এরই মধ্যে মনোনায়ন পেয়ে টিকে আছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আঃ বারেক মোল্লা, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আঃ আজিজ মুসুল্লী, জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ার হাওলাদার, ইসলামি শাসনতন্ত্রের আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, শতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাঈনুল ইসলাম মান্নান, এনপিপির প্রার্থী বেগম রাবেয়া খাতুন, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে আলহাজ্ব মোঃ ছাবের আহম্মেদ সোহাগ ও শতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন।

নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মধ্যে শতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিপাকে রয়েছে আওয়ামী লীগ সমার্থকরা। এমনকি প্রার্থীদের মধ্যে অভ্যান্তরীণ কোন্দল থাকায় এ মুহুর্তে মুখ খুলতে চাচ্ছে না সাধারণ নেতা কর্মীরা। বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী থাকায় অনেকটা সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছে তারা।

জাপার প্রার্থী আনোয়ার হাওলাদার ব্যক্তিগত সমর্থকদের কারণে বেশী সুবিধা জনক অবস্থানে। যার কারণে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপির ও জাপার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। এদিকে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনের কৌশল হিসেবে ভিতরে ভিতরে নির্বাচনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে এমনটা জানাগেছে।

বিএিনপি পন্থী ভোটারা অনেকেই মনে করছেন, এমন পাতানো নির্বাচন হবে না সত্যিই  একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে! তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তারপরও উন্নয়ন বঞ্চিত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার উন্নয়নে পৌর নির্বাচন গুরুত্বপূর্ন বিষয় বলে হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি, পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠন, টুরিজ্যম ব্যবসায়ী, ইনভেষ্টার ফোরামসহ সকল পোশাজীবীদের কাছে এখন আলোচ্য বিষয় হচ্ছে আসন্ন নির্বাচন। কে বা কার সাথে প্রতিযোগীতা করবে, বিজয়ী বা কে হবেন।

বিজয়ী হলে কোন প্রার্থী পর্যটন বান্ধব উন্নয়ন করতে পারবে এ নিয়ে সাধারণ ভোটার ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনায় উঠে আসছে।

কুয়াকাটা ৩ নং ওয়ার্ডের আঃ ছত্তার (৬৫) জানান, এ নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে যেতে পারবো তো? সাধারণ মানুষের নাকি ভোট লাগেনা ?

সরকার যাতে এইবার এটা না করে। ৭নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গির মোল্লা (৪৫) বলেন, আমরা কুয়াকাটাকে একটি পৌর শহর নয়, এটাকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিবেসে গড়তে চাই। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোন সংর্ঘষ না হয়, এটা সরকারের কাছে দাবি। কুয়াকাটা সীবিচের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইউসুফ (৩২) বলেন, বর্তমানে প্রার্থীর চেয়ে আমাদের ভোটারদের দাম বেশী। যে প্রাথীরা এখন ভোট চাচ্ছে ঐ লোকের কাছে এর আগে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো আর এখন আমার কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে রাস্তায় হাটছে তাতে না হয় আমরা একটু খানি ধন্য হলাম, কিন্তু পরে? এসব বিবেচনায় আমরা নির্বাচনে কাছের লোক চাই।

এমএ