খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ব রোড ইসলামনগর থেকে সোনাডাঙ্গা বিশ্বরোড পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে গড়ে ওঠা প্রায় ১৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৫০টি বসতবাড়ি উচ্ছেদ করতে মাঠে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে নিজেদের স্ব-স্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান  ও বসতবাড়ির মালিকরা গুড়িয়ে দিচ্ছেন তাদের প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার ( ৯ মে ) সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। উচ্ছেদ অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

পাউবো সূত্র থেকে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ি স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় গত শনিবার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে মাইকিং করা হয়। এরপর থেকে নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ি স্থাপনা নিজেরা সরিয়ে নিতে থাকে।

কিন্ত মো: মোয়াজ্জেম হোসেন নামে একজন ভুক্তোভোগী জানান আমি সহ আমার আশপাশের কিছু বসা বাড়ি এমন কোন নোটিশ পায়নি। হঠাৎ করে মাইকিং শুনে আমরা বিষ্মিত হয়।

কান্না জড়িত কন্ঠে মামুন নামে এক ব্যাবসায়ী বলেন, গরীবের পেটে লাথি মেরে লাভ টা কি। আমাদের এখন ব্যবসায়ী পণ্য, বেকারী খাবার পন্য সবতো নষ্ট হয়ে গেছে। এত ক্ষতিপূরন আমরা কিভাবে মিটাবো?

আব্দুস সালাম নামে একজন ভ্যান চালক বলেন, থাকি গোলপাতা ছাওনি ঘরে। বউ-ছোট বাচ্ছা আর বৃদ্ধ বাবা-মা কে নিয়ে এখন কোথায় যাবো?

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেন, জিরোপয়েন্ট ও সোনাডাঙ্গা ২ টা বাইপাস বিশ্বরোড আছে কাছাকাছি তাহলে এইটা বানানোর কি দরকার। ভ্যান-অটোর জন্য হাটতে প্রবলেম হবে। বিশ্বরোড হলে হাটা যাবেনা। বাইপাস রোড হলে মেসগুলোর ভাড়া প্রচুর পরিমান বাড়বে, হোটেলে খাবারের দাম বাড়বে, ভার্সিটির কালচার অন্য এলাকা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এসব কালচার দেখে বাইরের লোকদের অপরাধ প্রবণতা বাড়বে । হর্ণের জন্য লেখাপড়া সমস্যা ঘটবে। পরিবেশ নষ্ট হবে।

উল্লেখ্য, এলাকা বাসী সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

এমই